সমাপ্তি ভাষণে বাংলার প্রভূত শিল্পসম্ভাবনার কথা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি তাঁর ভাষণের প্রথম ভাগে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। এ কথা তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ক্ষুদ্র শুনতেই ক্ষুদ্র। আসলে ক্ষুদ্রই সুন্দর। আমাদের দেশে ক্ষুদ্রই সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করে।
এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি টেনে আনেন বাংলার নারীশক্তির প্রসঙ্গ। কীভাবে বাংলার মহিলারা ক্ষুদ্র শিল্পে এগিয়ে এসেছেন ও উপকৃত হচ্ছেন, তা মমতার এদিনের বক্তব্যের বড় অংশ জুড়ে বিস্তার লাভ করে। এক্ষেত্রে তিনি উল্লেখ করেন—
রাজ্যে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সংখ্যা বিপুল ও ক্রমবর্ধমান
স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে কর্মরত রাজ্যবাসীর সংখ্যা বিরাট
ভারতে কর্মসংস্থান কমেছে ৪০%
বাংলায় কর্মসংস্থান বেড়েছে ৪২%
এরপরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনীতির দর্শনকে আক্রমণ করেন। তিনি পরিষ্কার বলেন—
নগদহীন অর্থনীতি কর্মসংস্থান তৈরি করে না
ক্ষুদ্র শিল্পে জিএসটি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে
ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ক্ষুদ্র শিল্প চলে না
ক্ষুদ্র শিল্পে ডিজিটাইজেশন ভুল পদক্ষেপ
ইতিহাস রক্ষায়, শিক্ষাব্যবস্থায়, স্বাস্থ্য পরিষেবায় ডিজিটাইজেশন হোক, ক্ষুদ্র শিল্পে নয়
শিল্প নিয়ে বলতে গিয়ে বেঙ্গল বিজনেস গ্লোবাল সামিটের দ্বিতীয় তথা শেষ দিনে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারকে তিনি আরও তোপ দাগেন—
আমাদের দেশ ছেড়ে বিদেশাগত শিল্পপতিরা চলে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় এজেন্সির উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অতিসক্রিয়তার আশঙ্কায়
ট্যাক্সের জন্য সমস্যা নয়, ওভার ট্যাক্সেশনে সমস্যা
বাংলার শিল্প-অনুকূল পরিবেশ প্রসঙ্গে দীর্ঘ দাবিও পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্যাস—
বাংলার প্রকৃতি বৈচিত্রময়
পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থান বাণিজ্য-সহায়ক
বাংলার বাজার বহু-প্রসারিত
বাংলায় প্রশিক্ষিত কর্মী গণনাতীত
বাংলায় প্রতিভার প্রাচুর্য সুবিদিত
বাংলা ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী
বাংলার সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক স্তরে সম্মানিত
বাংলায় শিক্ষা উচ্চমানের
বাংলায় বিরাজমান বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য
বাংলা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জায়গা
বাংলা নিরাপদ, বাংলাই শিল্পের চূড়ান্ত গন্তব্য
বাংলায় শিল্পের পরিকাঠামো প্রস্তুত
বাংলায় পরিবহণ ব্যবস্থা প্রস্তুত
বাংলার সরকার শিল্পের জন্য প্রস্তুত
এদিন উল্লেখযোগ্যভাবে মুখ্যমন্ত্রী চা-বাগানের ১৫ একর জমি পর্যটন শিল্পে দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। হর্ষ নেওটিয়ার দৃষ্টান্ত তুলে ধ’রে, সেখানে ব্যবসার জন্য শিল্পপতিদের উৎসাহিত করেন। পাশাপাশি, দার্জিলিং-কালিম্পং-কার্শিয়াংয়ে আইটি হাব তৈরির জন্যও উৎসাহ দেন তিনি।
এরপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবারের বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনেন। তিনি জানান—
ভারত সহ আনুমানিক ৪০ দেশের ৫ হাজারের বেশি প্রতিনিধি বিজিবিএস (BGBS)-এ যোগ দিয়েছেন
১৮৮টি মউ (MOU) স্বাক্ষরিত হয়েছে
মোট ৩ লাখ ৭৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকার বেশি অর্থ বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে
শিল্পপতিদের উদ্দেশে এদিন মমতার গর্বিত বার্তা—
‘বাংলায় বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। সুযোগ বারবার আসে না। ব্যবসা আপনার দরজায়। বাংলায় আসুন। বাংলায় বিনিয়োগ করুন। বাংলাই হয়ে উঠবে আপনার লক্ষ্মী।’