তপশিলিদের নিয়ে ছেলেখেলা

মোদী সরকারের যথেচ্ছাচারে বিপন্ন প্রান্তিক পড়ুয়ারা!

বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারের তুঘলকিপনা। আর তার জেরে চূড়ান্ত অবমাননার শিকার তপশিলি জাতির বহু পড়ুয়া। শয়ে শয়ে দলিত ছাত্রছাত্রী এখন গ্রেফতারি পরোয়ানার মুখোমুখি। পঞ্জাবের বিভিন্ন কলেজে ঘোরালো পরিস্থিতি। জল গড়িয়েছে আদালত অবধি।

সবচেয়ে বেশি জলঘোলা গুরু নানক কলেজ অফ এডুকেশনে (Guru Nanak College of Education)। লুধিয়ানার ওই কলেজ থেকে বিএড-এমএড (B.Ed/M.Ed) কোর্স ক’রে রীতিমতো ফাঁপরে পড়েছেন অসংখ্য দলিত পড়ুয়া। শুধু সার্টিফিকেট আটকে রেখেই ক্ষান্ত হয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ, মামলাতেও জড়িয়েছে ছাত্রছাত্রীদের। কিন্তু কেন এমনটা হচ্ছে? খোলসা করা যাক।

ঘটনার কেন্দ্রে তপশিলি জাতির মাধ্যমিক-উত্তীর্ণ পড়ুয়াদের পরবর্তী শিক্ষায় বৃত্তি ব্যবস্থা তথা পোস্ট-ম্যাট্রিক স্কলারশিপ (Post-Matric Scholarship/PMS)। এই বৃত্তির জন্য অধিকাংশ খরচ দীর্ঘকাল কেন্দ্র বহন করেছে। কিন্তু ২০১৭ সালে মোদী সরকারের মন্ত্রক কার্যত হাত ধুয়ে ফেলে। প্রায় পুরো ব্যয়ভার বর্তায় রাজ্যের উপর। পরিণামে শিক্ষাক্ষেত্রে অনগ্রসরদের গুরুতর স্বার্থ নিয়ে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা এবং বেনিয়ম।

গুরু নানক কলেজ সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সময় দলিত পড়ুয়াদের থেকে আদায় করে নেওয়া হয় স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক চেক। কর্তৃপক্ষের তরফে এই বলে অজুহাত খাড়া করা হয় যে, বৃত্তির টাকা অনাদায়ে চেকগুলি ব্যবহার করা হবে। ২০২১-এ আবার নীতি পাল্টে ফেলে কেন্দ্রীয় সরকার। বৃত্তির ব্যয়ভার ফের বহন করতে সম্মত হয় কেন্দ্র। কিন্তু কলেজগুলি ২০১৭-২০২১ কালপর্বে তপশিলি ছাত্রবৃত্তির টাকা হাতে পায়নি।

এই অবস্থায় মরিয়া কৌশল নেয় গুরু নানক কলেজের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি। ভর্তির সময় পড়ুয়াদের থেকে নেওয়া ব্ল্যাংক চেকে ইচ্ছেমতো অংক বসিয়ে অর্থ আদায়ের রাস্তায় হাঁটে তারা। কিন্তু আর্থিকভাবে অসচ্ছল বেশিরভাগ পড়ুয়ার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ওই পরিমাণ টাকা নেই। ফলে চেক বাউন্স করে। এবং আদালতের দ্বারস্থ হয় কলেজ কর্তৃপক্ষ।

গুরু নানক কলেজের ক্ষেত্রে লুধিয়ানা জেলা আদালত অনগ্রসর শ্রেণির বহু পড়ুয়াকে জামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা ধরিয়েছে। শুধু তাই নয়, আগামী বছরের দ্বিতীয় মাসে পরবর্তী শুনানির আগে ২৫ হাজার টাকার বন্ড আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। অন্যথায় জামিনের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হবেন ওই দলিত ছাত্রছাত্রী। সেক্ষেত্রে ২ বছরের কারাদণ্ড নিশ্চিত।

জেলা আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে তপশিলি জাতির বিপন্ন পড়ুয়াদের পক্ষে পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে আইনি লড়াই শুরু করেছে সমাজকর্মী আইনজীবীদের একাংশ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের তুঘলকিপনার পাশাপাশি কলেজ কর্তৃপক্ষের কার্যকলাপের দিকেও আঙুল তুলেছে তারা। ছাত্রছাত্রীদের থেকে স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক চেক আদায় কি বৈধ? আদায়কৃত সেই ব্ল্যাঙ্ক চেকে যথেচ্ছ অংক বসিয়ে দেওয়া কতটা নৈতিক? প্রশ্ন তুলছেন সমাজকর্মী আইনজীবী।