দিল্লীতে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে যাওয়া বাংলার বাসিন্দা গোটা পরিবারকে বাংলাদেশী তকমা দিয়ে সীমান্ত পার

Three Birbhum residents in Delhi crossed the border as Bangladeshis

মনিরুল হোসেন

বাংলায় কথা বলার জন্য দিল্লীতে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে যাওয়া বীরভূমের বাসিন্দা তিন জনেকে বিদেশী তকমা দিয়ে জোর করে বাংলাদেশ সীমান্ত পার করিয়েছে বিএসএফ। এখন তাদের ফেরানোর চেষ্ঠা চালিযে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

 পশ্চিমবঙ্গের বাইরে ভিন রাজ্যে বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যে বারংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশী দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে ডিটেনশন ক্যাম্পে। তারপরেই তাদের মধ্যে থেকে বেছে বেছে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু এদের অধিকাংশই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে ছড়িয়ে রয়েছে। বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যে এই ঘটনা উদ্বেগ জনকহারে বেড়েই চলেছে। কদিন আগেই মুর্শিদাবাদের কয়েকজন যুবক মুর্শিদাবাদে একটি চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিলেন তখন মুম্বাই পুলিশ তাদের তুলে নিয়ে যায়। আধার কার্ড ভোটার কার্ড দেখানো সত্বেও তাদের বাংলাদেশী বলে ডিটেনশন ক্যাম্পে প্রথম পাঠানো হয়। সেখান থেকে বিমানে করে কোচবিহার সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ তাদের উপর অত্যাচার করে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। এই খবর পাওয়ার পর রাজ্য সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদ প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র জোগাড় করে তাদের ফিরিয়ে নিয়ে আসে। এরপরেও একের পর এক ঘটনা ঘটতে থাকে। যাদের ধরা হচ্ছে বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য তাদের পরিবার লোকজন এমনকি সেই জেলার জেলাশাসক থেকে রাজ্যের মুখ্যসচিব পর্যন্ত তাদের মুক্ত করার চেষ্টা করছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবার উদ্দেশ্যে বার্তা পাঠাচ্ছেন কিন্তু কাজ হচ্ছে না। আবার দিল্লিতে একই ঘটনা ঘটলো। দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে বহু বাংলাভাষী মানুষ পশ্চিমবঙ্গ থেকেই গেছেন। এবার তাদের বাংলাদেশি তকমা দিয়ে দিল্লি থেকে বিতাড়িত করে বাংলাদেশ পার করানোর চক্রান্ত চলছে। ভাবতে পারেন বীরভূমের পাঁচ বছরের শিশুসহ একটা পরিবারকে বিদেশী বলে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে ।

পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান রাজ্যসভার সাংসদ অধ্যাপক সামিরুল ইসলাম ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে টুইট করেছেন। তিনি লিখেছেন

“মহারাষ্ট্র পুলিশের পর, এবার দিল্লি পুলিশ বীরভূমের পাইকর গ্রামের পাঁচ বছরের এক শিশু সহ তিনজনকে বাংলাদেশে বিতাড়িত করেছে। আমার প্রশ্ন বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের বিতাড়ন কবে বন্ধ হবে? বিজেপি নেতারা  কবে বুঝবে যে তারা যাদের বিদেশী নাগরিক বলে বিতাড়ন করা হচ্ছে তাদের অধিকাংশই প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক। আমরা  আইনি লড়াই লড়ছি, কিন্তু আমাদের শিক্ষিত বাঙালি সমাজ এবং সমস্ত দায়িত্বশীল ভারতীয় নাগরিকদের কাছে বিনীত অনুরোধ এই বর্বর নৃশংসতার বিরুদ্ধে আপনারা আওয়াজ তুলুন।“

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধী দল এ বিষয়ে কার্যত মুখে কুলূপ এঁটেছে। বিশেষ করে বিরোধী দলেের নেতা শুভেন্দু অধিকারী পর্যন্ত কোন কথা বলছেন না। প্রশ্ন উঠছে বিজেপি শাসিত রাজ্যে এই ঘটনা ঘটছে বলে তারা চূপ আছেন না যাদের বিতাড়িত করা হচ্ছে তাদের সিংহভাগ মুসলমান বলে প্রতিবাদ করছে না। অদ্ভূত ভাবে বাংলার বিশিষ্টজনেরা কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে চলেছেন।