আসামের সঙ্গে কোন যোগ নেই তবু অবৈধ বাসিন্দা সন্দেহে উত্তমকে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের নোটিশ প্রতিবাদে পথে নামার ডাক সাংসদ সামিরুলের

মনিরুল হোসেন, সাংবাদিক

কোচবিহারের বাসিন্দা উত্তম কুমার ব্রজবাশীকে আসামের অবৈধ বাসিন্দা বলে সন্দেহ করে নোটিশ পাঠিয়েছে আসামের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল। অথচ জীবনে কোন দিন তিনি আসামে পা রাখেননি। এই অবাক করা কান্ডই বাস্তবে ঘটেছে। এই নোটিশ পেয়ে উত্তম রাজবংশী কি লিখেছেন তা বিস্তারিত তুলে ধরছি। আবেদনটি একটু মনোযোগ সহকারে পড়ার অনুরোধ করছি।

 তিনি লিখেছেন আমি উত্তম কুমার ব্রজবাশী । পিতা নরেন্দ্রনাথ ব্রজবাশী। সাদিয়ালেরকুঠি, জিপি-চৌধুরীহাট, পিএস-এসবিজি/সিবিআরের বাসিন্দা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আসামের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল, কামরূপ (এম) নং ২, হেদায়েতপুর, গুয়াহাটি-৩ থেকে এফট একটি নোটিশ পান।যেখানে তাঁকে ০৬.০১.২০২৫ তারিখে প নথিপত্র সহ ট্রাইব্যুনালে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি ০১.০১.১৯৬৬ থেকে ২৪.০৩.১৯৭১ তারিখের মধ্যে বা তার পরে বৈধ নথিপত্র ছাড়া অবৈধভাবে আসামে প্রবেশ করেননি।

এই নোটিশ পাওয়ার পরেই আকাশ থেকে পড়েন  উত্তম কুমার ব্রজবাসী। বাধ্য হয়ে তিনি তার আইনজীবীর মাধ্যমে কামরূপের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের সামনে হাজির হয়ে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্য আরও সময় দিতে আবেদন জানান। ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৫ জুলাই হাজির হওয়ার নির্দেশ জারি করেছে।

তিনি যে কোচবিহারে আদি বাসিন্দা তার সমর্থনে, উত্তম কুমার ব্রজবাসীর বাবার ১৯৬৬ এবং ১৯৮৮ সালের ভোটার তালিকার কপি সংগ্রহ করেছেন। যেখানে তার বাবার নাম রয়েছে। যেখান থেকে পরিস্কার জানা যায় তার বাবা ১৯৭১ সালের আগে ভারতে বসবাস করতেন।

 সত্যিই বাংলার মানুষদের নিয়ে ভিন রাজ্যে আজব ঘটনা ঘটছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশী তকমা দিয়ে বিএসএফের সাহায্যে জোর করে সীমান্ত পার করার ঘটনা একের পর এক সামনে আসছে। তার সঙ্গে যুক্ত নতুন এই চিন্তা।

এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম সামাজিক মাধ্যমে বাংলার শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষকে পথে নামার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন “বাংলার মানুষকে আসামের নাগরিক বলে ডিটেনশন ক্যাম্পে ভরে দেওয়ার চেষ্ঠা চলছে। এভাবেই আজ বাংলার বাসিন্দারের বিজেপি শাসিত রাজ্যে টার্গেট করা হচ্ছে। তাই বাংলা বিরোধী চক্রান্তের বিরুদ্ধে দল মতের উর্ধে উঠে প্রতিবাদ সরব হোন।তা না হলে আগামী দিন আমাদের আরও চড়া মাসুল দিতে হবে। সমাজের সব অংশের মানুষকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার, পথে নামার আবেদন করছি।