দিনহাটার বাসিন্দার কাছে আসাম থেকে NRC নোটিশ জারি পূর্ব পরিকল্পিত নোংরা চক্রান্ত প্রতিক্রিয়া মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা দিলীপ ঘোষ

Assam NRC notice Controversy

মনিরুল হোসেন

 সোমবার আমরা খবর করেছিলাম কোচবিহারের বাসিন্দা উওম কুমার ব্রজভাষীর কাছে আসামের কামরূপ ফরেনারস ট্রাইবুনাল থেকে নোচিশ পাঠানো হয়েছে যে তিনি অবৈধ ভাবে আসামে প্রবেশ করেছেন। তিনি যে বিদেশী নাগরিক নন তা তাঁকে প্রমাণ করতে হবে। রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ অধ্যাপক সামিরুল ইসলাম সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনা তুলে ধরে তার তীব্র সমালোচনা করেন। তারপরেই বিষয়টি রীতিমত শোরগোল পড়ে যায়।

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের সামাজিক মাধ্যমে  লিখেছেন, “আমি হতবাক ও অত্যন্ত বিচলিত হয়েছি জেনে যে, কোচবিহারের দিনহাটার বাসিন্দা রাজবংশী সম্প্রদায়ের উত্তম কুমার ব্রজবাসীকে অসমের ফরেনার্স ট্রাইবুনাল, এনআরসি নোটিশ জারি করেছে। গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই বাংলার বাসিন্দা। তাঁর বৈধ পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও, তাঁকে ‘বিদেশি/অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে হয়রানি করা হচ্ছে। এটি আমাদের গণতন্ত্রের উপর একটি পরিকল্পিত আক্রমণ ছাড়া আর কিছুই নয়। এটিই প্রমাণ করে যে অসমে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যেখানে তাদের কোনো ক্ষমতা বা অধিকার নেই। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ভয় দেখানো, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া এবং নিশানা করার একটি পূর্বপরিকল্পিত নোংরা চক্রান্ত চলছে। এই অসাংবিধানিক আগ্রাসন জনবিরোধী এবং এটি বিজেপির বিপজ্জনক ষড়যন্ত্রকে দিনের আলোর মত স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, গণতান্ত্রিক সুরক্ষাকে ধ্বংস করে বাংলার মানুষের পরিচয় মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে সমস্ত বিরোধী দলগুলির একজোট হওয়া এবং বিজেপির বিভাজনমূলক ও দমন পীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো অত্যন্ত জরুরি। ভারতবর্ষের সাংবিধানিক কাঠামোকে ধ্বংস করা হলে, বাংলা চুপ করে থাকবে না।”

এই ঘটনার পাল্টা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “এনআরসি একটি আইন। মুখ্যমন্ত্রীর যদি কিছু বলার থাকে, তাহলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ড না করে প্রশাসনিক পথে এগোন। প্রথমত, সরাসরি অসম সরকারের সঙ্গে কথা বলুন। দ্বিতীয়ত, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ অসমে রয়েছেন। তাই, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচিত তাদের তথ্যগুলো অসম সরকারকে দেওয়া।এইরাজ্যের সরকার এই তথ্য দিচ্ছে না বলেই এই সমস্যা হচ্ছে। তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে কোনও সমস্যা হলে দায়ী পশ্চিমবঙ্গ সরকার।”

সোমবার সাংসদ সামিরুল ইসলাম নিজের সামাজিক মাধ্যমে উত্তম ব্রজভাষীর সমস্যার বিষয়টি তুলে ধরে লিখেছিলেন,

“আসামে কোনও দিন পা রাখেননি। অথচ আসাম সরকার থেকে কোচবিহারের রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ উত্তম কুমার ব্রজবাসীর কাছে নোটিশ এসেছে তিনি ভারতীয় কিনা তা তাঁকে প্রমাণ করতে হবে।কত বড় সাহস ভাবুন তো। তাঁর জন্ম কর্ম পশ্চিমবঙ্গে।অথচ তাঁকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সহ আগামী ১৫ জুলাই আসামের কামরূপে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁকে প্রমাণ করতে হবে তিনি বৈধ নথিপত্র ছাড়া অবৈধভাবে আসামে প্রবেশ করেননি। বা্ধ্য হয়ে তিনি তাঁর বাবা নরেন্দ্রনাথ ব্রজবাসীর ১৯৬৬ ও ১৯৮৮ সালের কোচবিহারে ভোটার লিস্টে নাম খুজে বের করেছেন।

ভাবুন অবস্থা! বাংলার মানুষদের বিরুদ্ধে কিভাবে চক্রান্ত করা হচ্ছে। বাংলার মানুষকে বিদেশী নাগরিক বলে ডিটেনশন ক্যাম্পে ভরে দেওয়ার চেষ্ঠা চলছে। এভাবেই আজ বাংলার বাসিন্দারের বিজেপি শাসিত রাজ্যে টার্গেট করা হচ্ছে। আর চূপ করে বসে থাকা নই, বাংলা বিরোধী চক্রান্তের বিরুদ্ধে দল মতের উর্ধে উঠে প্রতিবাদ সরব হোন।তা না হলে আগামী দিন আমাদের আরও চড়া মাসুল দিতে হবে। সমাজের সব অংশের মানুষকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার, পথে নামার আবেদন করছি।“

আজ এই ঘটনার প্রতিবাদে কোচবিহারে প্রতিবাদ মিছিল করে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা।