দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

The state government is introducing a stringent bill to curb corruption.

নিজস্ব প্রতিবেদন:

দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের অবস্থান যে একেবারেই আপসহীন, তা ফের স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে এবং অতীতের সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র জেলই নয়, ভবিষ্যতে দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হবে। অধিবেশনের শেষ দিনেই দুর্নীতি দমনে আরও কঠোর আইন আনার ঘোষণা করেন তিনি।

বিধানসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “অনেকেই ভাবছেন, দু’মাস জেলে থাকলাম, তার পর আইনি লড়াই করে জেল থেকে বেরিয়ে এলাম। তাঁদের মনে রাখতে হবে, এ বার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করব। সম্পত্তি নিলাম করব।”

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন আইনের মাধ্যমে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলামে তোলা হবে। সরকারের দাবি, এতে দুর্নীতির প্রবণতা অনেকটাই কমবে এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা যাবে।

দুর্নীতি তদন্তে কমিশন

দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ কমিশন গঠন করেছে রাজ্য সরকার। সেই কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। মেম্বার সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন এডিজি পদমর্যাদার আইপিএস অফিসার কে জয়রামন।

এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “একটা কমিশন হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু এবং মেম্বার সেক্রেটারি, যাঁর নাম শুনলে অনেকেই ভয় পান, এডিজি র‍্যাঙ্কের আইপিএস কে জয়রামনকে নিয়ে। যত চুরি করেছেন, মনরেগার চুরি, আবাসের চুরি, জল জীবন মিশনের চুরি, লক্ষ্মীর ভান্ডারের চুরি— যত চুরি করেছেন, এই কমিশনে অভিযোগ পড়বে এবং তাঁদের শ্রীঘরে যেতে হবে।”

সরকারি সূত্রের দাবি, বিভিন্ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কমিশনকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

অনুপ্রবেশ রোধেও কড়া বার্তা

বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অনুপ্রবেশের বিষয়েও কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর আওতার বাইরে থাকা বহু ব্যক্তিকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, “সিএএ-র আওতায় যাঁরা আসেননি, বাকি যাঁরা ঢুকে পড়েছেন, এখনও অবধি আমি ১০ হাজার জনকে বার করেছি। আমার কাছে ১২টা হোল্ডিং সেন্টারে আরও ১,৮০০ জন অপেক্ষা করছেন। রোজ ও পারে পাঠাচ্ছি। থাকবে না কেউ।”

এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

নিয়োগে স্বচ্ছতার আশ্বাস

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ নিয়ে অতীতে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন যে, তাঁর সরকারের আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের পক্ষপাতিত্ব বরদাস্ত করা হবে না।

তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে করা হবে। কোনও রাজনৈতিক নেতা বা রাজনৈতিক প্রভাব নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবে না। যোগ্যতার ভিত্তিতেই চাকরি দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের নজর নতুন আইনের দিকে

মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দুর্নীতির দায়ে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও নিলামের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তা রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

এখন নজর অধিবেশনের শেষ দিনে ঘোষিত হতে চলা নতুন আইন এবং দুর্নীতি বিরোধী কমিশনের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের দিকে।