High drama unfolded in the Supreme Court on Friday
নয়া দিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চলাকালীন নজিরবিহীন এক বিশৃঙ্খল ঘটনার সাক্ষী থাকল দেশের বিচার ব্যবস্থা। শুক্রবার আদালত কক্ষেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে গালিগালাজ করা, নথি ছুড়ে ফেলা এবং নিজেকে ‘সার্বভৌম’ (Sovereign) দাবি করে এক আবেদনকারী । শুধু তাই নয়, বিচারপতিদের ‘বিচার বিভাগীয় কর্মচারী’ বলে সম্বোধন করার অভিযোগে ঐ আবেদনকারীকে নিরাপত্তারক্ষীরা আদালত থেকে বের করে দেন। চরম নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হলেও, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথন এবং বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো অবমাননাকর বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। বরং তাঁর মানবিক হতাশার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার বেলা ১১টা নাগাদ। প্রবাল প্রতাপ নামে ওই আবেদনকারী কোনো আইনজীবী ছাড়াই নিজে মামলা লড়ছিলেন। আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি বেঞ্চের উদ্দেশ্যে বলেন, “মিঃ জুডিশিয়াল সার্ভেন্ট, আমি আপনাকে লখনউয়ের এএসপির বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগে এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দিচ্ছি।” বিস্মিত বিচারপতি বিশ্বনাথন প্রশ্ন করেন, “আপনি আমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন?” এরপরই আবেদনকারী প্রধান বিচারপতির নাম ধরে গালিগালাজ শুরু করেন এবং বাতাসে কাগজপত্র ছুড়ে মারেন। নিরাপত্তা কর্মীরা অবিলম্বে তাঁকে আটক করে আদালত কক্ষের বাইরে নিয়ে যান।
আদালত অবমাননার কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে বিচারপতি বিশ্বনাথন মন্তব্য করেন, “আমরা ওনার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে চাই না। উনি অত্যন্ত বিপর্যস্ত ও হতাশ। ওনার প্রতি আমাদের কেবল সহানুভূতিই রয়েছে।” তবে মামলার নথিপত্র খতিয়ে দেখে বিশেষ অনুমতি আবেদনটি (SLP) খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত।
এই ঘটনার পর ‘সুপ্রিম কোর্ট আর্গুয়িং কাউন্সিল অ্যাসোসিয়েশন’ প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি লিখে এই ধরনের বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার খণ্ডিত ক্লিপ ছড়িয়ে বিচার ব্যবস্থার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেছে।
মূলত, লখনউয়ের বিশেষ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবেদনকারীর মামলাটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত না করে ব্যক্তিগত অভিযোগ হিসেবে বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এলাহাবাদ হাইকোর্ট সেই রায় বহাল রাখলে, প্রবাল প্রতাপ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত খারিজ হয়ে গেল।
