বিরোধীদের নিশানায় CEC! নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি

Election Commission in the opposition’s crosshairs

নিজস্ব প্রতিবেদন

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দুই নির্বাচন কমিশনারের লিখিত আপত্তির তথ্য সামনে আসতেই দেশজুড়ে রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে। কংগ্রেস থেকে শুরু করে তৃণমূল, সিপিআই(এম), সমাজবাদী পার্টিসহ একাধিক বিরোধী দল নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের প্রতিক্রিয়াগুলি একনজরে দেখে নিন:

১. কংগ্রেস: তদন্ত ও জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি

  • মল্লিকার্জুন খাড়গে (কংগ্রেস সভাপতি): কমিশনের ভেতর থেকে দুই নির্বাচন কমিশনারের লিখিত আপত্তির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে এতদিনের আশঙ্কাই সত্যি হলো বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর জন্য রাজ্যসভায় আগে দেওয়া বিরোধীদের নোটিসের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।
  • রাহুল গান্ধী: ফের ‘ভোট চুরি’-র গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী আধিকারিকদের ভূমিকা সরাসরি দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত।
  • পি চিদম্বরম: দুই নির্বাচন কমিশনার ভিন্নমত পোষণ করা সত্ত্বেও কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের মতই কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে গণ্য হলো, সেই প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি SIR প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা এবং সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলি সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনার দাবি জানান।
  • কে সি বেণুগোপাল: জ্ঞানেশ কুমারের পদে থাকার নৈতিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন।
  • মণীশ তিওয়ারি ও অভিষেক মনু সিংভি: রিপোর্টের তথ্য অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করে কমিশনের সিদ্ধান্তে কোনো ‘অদৃশ্য হাত’ কাজ করছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

২. সিপিআই(এম): সংসদে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি

  • জন ব্রিটাস (সিপিআই(এম) সাংসদ): দুই নির্বাচন কমিশনারের ১৪ বার আপত্তির ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করে তিনি সংসদে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, SIR প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন তিনি।

৩. তৃণমূল কংগ্রেস: রাজ্যসভার পুরনো নোটিস ফের সামনে আনার দাবি

  • ডেরেক ও’ব্রায়েন (তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা): কয়েক মাস আগেই ৬০-এর বেশি রাজ্যসভা সাংসদ জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে যে নোটিস দিয়েছিলেন, নতুন এই রিপোর্ট প্রকাশের পর সেই নোটিসটি ফের সামনে এনে সংসদে আলোচনা করার দাবি জানিয়েছেন।

৪. সমাজবাদী পার্টি: সুপ্রিম কোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত হস্তক্ষেপের দাবি

  • অখিলেশ যাদব (সপা প্রধান): একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের অন্দরেই যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে এই ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়, তবে তা কেবল অভ্যন্তরীণ বিষয় হতে পারে না। এই ঘটনায় তিনি সুপ্রিম কোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Motu) হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

৫. শিবসেনা (উদ্ধব শিবির): জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

  • সঞ্জয় রাউত: সংবাদমাধ্যমের এই রিপোর্টকে হাতিয়ার করে নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালীর তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।

৬. রাষ্ট্রীয় জনতা দল (RJD): ভোটার তালিকার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন

  • মনোজ ঝা: নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই যদি ভোটার তালিকা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তবে তা উপেক্ষা করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, এর সঙ্গে গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা জড়িয়ে রয়েছে।

৭. আম আদমি পার্টি (AAP): SIR নিয়ে কঠোর অবস্থান

  • সঞ্জয় সিং: দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি সত্ত্বেও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে SIR প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি বর্তমান কমিশনের অধীনে হওয়া নির্বাচনগুলি নিয়ে গুরুতর রাজনৈতিক প্রশ্নও তুলেছেন।

বিজেপির প্রতিক্রিয়া:

বিরোধীদের এই আক্রমণ ও দাবির বিপরীতে বিজেপি নেতা রাম কদম পাল্টা জবাব দিয়ে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। রাজনৈতিক ফায়দার জন্য এই ধরনের সংস্থাকে বিতর্কের কেন্দ্রে টানা উচিত নয়। ভোটার তালিকা থেকে ভুয়ো ভোটার বাদ দেওয়া এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখাই কমিশনের আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত।