বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীর ধর্ষণকাণ্ডের অভিযোগে রণক্ষেত্র ক্যাম্পাস, অবরুদ্ধ জাতীয় সড়ক

Private university campus in Punjab in turmoil as students protest over rumors of a female student’s rape.

নিজস্ব প্রতিবেদন

পাঞ্জাব: কাপুরথলা জেলার ফাগওয়ারায় অবস্থিত নামী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি (এলপিইউ)-তে শনিবার গভীর রাতে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। ক্যাম্পাসের এক মহিলা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ তোলার পর বিক্ষোভে ফেটে পড়েন পড়ুয়ারা। প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা চত্বর।

ঘটনার সূত্রপাত ও বিক্ষোভের কারণ

২৭ সেপ্টেম্বর মাঝরাতে লভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে এক মহিলা ছাত্রীকে এক প্লাম্বার ধর্ষণ করেছেন—এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পরেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হোস্টেলের এক আবাসিক ছাত্রীকে তিন দিন আগে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, এই অভিযোগ তুলে পড়ুয়ারা রাস্তায় নেমে পড়েন। ফাগওয়ারা ও জলন্ধরের মধ্যবর্তী জাতীয় মহাসড়ক (এনএইচ-৪৪) অবরুদ্ধ করে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর চালাচ্ছেন। জানালার কাঁচ ও ফুলের টব ভাঙার পাশাপাশি বেশ কিছু জিনিসে আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি উপাচার্যের আশ্বাসেও আন্দোলনকারীরা পিছু হটেননি; বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা-চ্যান্সেলর তথা রাজ্যসভার সাংসদ অশোক মিত্তালকে নিজে এসে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিতে হবে—এই দাবিতে অনড় থাকেন তাঁরা।

প্রশাসনের ভূমিকা ও এফআইআর

জলন্ধর রেঞ্জের ডিআইজি নবীন সিঙ্গলা জানান, পড়ুয়াদের অভিযোগের ভিত্তিতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের ধারায় এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে। কাপুরথলার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ গৌরব তুরা জানান, রাত দেড়টা নাগাদ তাঁরা খবর পান এবং দ্রুত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

অন্যদিকে, এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে এলপিইউ কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মনিকা গুলাটি এক বিবৃতিতে জানান, সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো রিউমর বা গুজব সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পাশাপাশি, ওই হোস্টেলেরই তিন ছাত্রীর একটি ভিডিও বিবৃতি প্রকাশ করে দাবি করা হয়, এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি।

উল্লেখ্য, এর আগের দিনই পাতিয়ালার চিত্রকার ইউনিভার্সিটিতে দুই ছাত্রীর আত্মহত্যার গুজবকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছিল, যা পরবর্তীতে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়। এলপিইউ-র বর্তমান ঘটনা ঘিরেও প্রশাসন সতর্ক দৃষ্টি রাখছে এবং ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

তথ্যসূত্র

  • দি হিন্দু