SRFTI-তে অনুষ্ঠান ঘিরে সংঘর্ষ: দায়ের ৩টি এফআইআর, তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশ

Clash over event at SRFTI: 3 FIRs filed

নিজস্ব প্রতিবেদন

কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)-এ গত রবিবার এক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সোমবারও ইনস্টিটিউটের বাইরে পুলিশ মোতায়েন ছিল, আর ক্যাম্পাসের ভেতরে হাতে ব্যানার নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও নীরব প্রতিবাদ জানান পড়ুয়ারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশ মোট তিনটি এফআইআর দায়ের করেছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় একটি মামলা পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে করেছে। বাকি দুটি মামলা দায়ের হয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ভিত্তিতে—যার মধ্যে একটি করেছেন SRFTI-এর ফিল্ম উইংয়ের ডিন সুকান্ত মজুমদার এবং অন্যটি করেছে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত (ABGP)।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

  • ABGP-র অভিযোগ: ক্যাম্পাসে একটি নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান করতে পৌঁছানোর পর একদল অজ্ঞাতপরিচয় পড়ুয়া তাঁদের পথ আটকান এবং ঘেরাও করেন। গালিগালাজ ছাড়াও মহিলা সদস্যদের প্রতি অশালীন অঙ্গভঙ্গি করা হয় এবং মারধরের অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি ভারতমাতা, মা দুর্গা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি ভাঙচুরেরও অভিযোগ তুলেছে এই সংগঠনটি।
  • SRFTI ডিনের অভিযোগ: ক্যাম্পাসে ঢুকে অজ্ঞাতপরিচয় কিছু ব্যক্তি সাধারণ পড়ুয়া ও দুই শিক্ষককে আটকে রেখে মারধর করেন। এমনকি মহিলা পড়ুয়াদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ আনা হয়েছে।
  • পুলিশের বক্তব্য: পুলিশের দায়ের করা স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় বলা হয়েছে, একদল পড়ুয়া আইন অমান্য করে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা দেন ও হেনস্থা করেন। এ সময় একটি সরকারি গাড়ির জানলার কাচও ভেঙে ফেলা হয়।
  • ছাত্র সংসদের দাবি: অন্যদিকে, SRFTI ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ABGP-র সদস্যরা ক্যাম্পাসের পড়ুয়াদের ‘অ্যান্টি-ন্যাশনাল’, ‘আরবান নকশাল’ এবং ‘টেররিস্ট’ বলে আক্রমণ করেন এবং তাঁদের উপর চড়াও হন। তবে এই অভিযোগগুলির কোনোটিই এখনও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ সরকার বলেন, ‘‘কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে কোনও ধরনের হিংসাই নিন্দনীয়। অভিপ্রেত নয়। কিন্তু আমি যা ছবি দেখলাম, তাতে দুই পক্ষের গন্ডগোলে যদি স্বামী বিবেকানন্দের ছবি বা ভারতমাতার ছবিতে লাথি পড়ে, তা হলে বুঝতে হবে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই সংস্কৃতি আমরা বদলাব। কোনও বাঙালি ছাত্রছাত্রী বিবেকানন্দের ছবিতে লাথি মারতে পারেনা। এই সংস্কৃতি বরদাস্ত হবে না।’’ এর পরেই তিনি স্পষ্ট করে দেন, ‘‘পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। কাউকে ছাড়া হবে না।’’

পরবর্তী পদক্ষেপ ও তদন্ত

বর্তমানে প্রকৃত ঘটনা কী ঘটেছিল এবং এই হিংসাত্মক ঘটনায় ঠিক কারা সরাসরি যুক্ত ছিল, তা চিহ্নিত করতে তৎপর হয়েছে পুলিশ। এর জন্য ইনস্টিটিউটের অন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ খুঁটিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।