শিলিগুড়ির মাটিগাড়ায় গরু পাচার সন্দেহে গণপিটুনি! মর্মান্তিক মৃত্যু দু’জনের

Two die in mob beating over suspected cattle smuggling in Matigara.

নিজস্ব প্রতিবেদন , শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি সংলগ্ন মাটিগাড়া-বাগডোগরা এলাকার তারাবাড়িতে বালাসন নদীর কাছে গবাদিপশু পাচার সন্দেহে বসল গণপিটুনির রক্তাক্ত আসর। শনিবার ভোরে গরু চুরির অভিযোগে পাঁচ থেকে সাতজন ব্যক্তিকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই নৃশংস ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এসিপি অনির্বাণ মজুমদার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাটিগাড়া থানার তারাবাড়ি থেকে অভিযুক্তদের ধেমাল এলাকায় নিয়ে গিয়ে দফায় দফায় মারধর চালানো হয়। এই ঘটনায় নিহত দুই ব্যক্তির নাম সাহিদ আখতার (চোপড়ার বাসিন্দা) এবং শাদ মোহাম্মদ (হরিয়ানার বাসিন্দা)। আটক ও গ্রেফতার হওয়া বাকি অভিযুক্তদের মধ্যে আমির সত্তার, আক্রম খান এবং আরিফ খানও হরিয়ানার নিবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গরু চুরি হচ্ছিল। শনিবার রাতে একটি পিকআপ ভ্যান ও অন্য একটি গাড়িতে করে দুষ্কৃতীরা গরু চুরির চেষ্টা করলে টের পান বাসিন্দারা। এরপরই ক্ষুব্ধ জনতা গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং অভিযুক্তদের নির্মমভাবে পেটায়।

মৃতের পরিবারের অবশ্য দাবি, তাঁরা গরু পাচারকারী নন, বরং গত দশ বছর ধরে বৈধ গরুর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আইন নিজের হাতে তুলে না দিয়ে তাঁদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া উচিত ছিল বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

ঘটনার খবর পেয়ে মাটিগাড়া, বাগডোগরা ও পানিঘাটা ফাঁড়ির বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, গরু চুরির অভিযোগ এবং আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনির মতো অপরাধ— উভয় দিকতি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।