দিল্লির রেসকোর্স মসজিদ বিতর্ক: ভেঙে ফেলার আশঙ্কা, জলের লাইন কাটা এবং আদালতের সর্বশেষ নির্দেশ

Racecourse Mosque Controversy

বিশেষ প্রতিবেদন

নতুন দিল্লি : দিল্লির প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদকে ঘিরে বর্তমানে তীব্র রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মসজিদটি সরকারি জমিতে অবৈধভাবে তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে এর উচ্ছেদ এবং বিদ্যুৎ-জল সংযোগ কেটে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক এই পুরো বিতর্কের নেপথ্য কারণ, মসজিদের ইতিহাস এবং আদালতের সর্বশেষ রায়।

কেন তৈরি হয়েছে এই পরিস্থিতি?

গত ১৯ অক্টোবর কেন্দ্রীয় সরকারের ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (L&DO)-এর পক্ষ থেকে মসজিদের প্রতিনিধিদের একটি উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয় এবং মাত্র ছয় দিনের মধ্যে প্রাঙ্গণ খালি করতে বলা হয়। সরকারের দাবি, এই মসজিদটি সম্পূর্ণ অননুমোদিত এবং এটি সরকারি জমির ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে।

অন্যদিকে, মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও মসজিদ কমিটির অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে উপাসনালয় ভাঙার চক্রান্ত চলছে। তবে এই বিতর্কের সূত্রপাত কেবল একটি মসজিদকে কেন্দ্র করে নয়। ওই এলাকার প্রায় ৫৩ একর জুড়ে থাকা রেসকোর্স ক্লাব এবং আশেপাশের বস্তি এলাকাও উচ্ছেদের মুখে রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে কেন্দ্র সরকার এই এলাকার দখল নিতে চাইছে।

ওয়াকফ রেজিস্ট্রি বনাম জমির মালিকানা

মসজিদ পক্ষের দাবি অনুযায়ী, ১৯৭৭ সালের দিল্লি গেজেটে এটি একটি নথিভুক্ত ওয়াকফ সম্পত্তি এবং এটি হেরিটেজ বা ঐতিহ্যবাহী তালিকার অন্তর্ভুক্ত। তবে আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ধর্মীয় কাঠামোর ওয়াকফ হিসেবে নথিভুক্ত থাকা বা পুরনো হওয়া মানেই যে সরকারি জমিতে তার দখলের আইনি অধিকার প্রমাণিত হয়, বিষয়টি এমন নয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জমিটি সম্পূর্ণভাবে সরকারি এবং সেখানে অবৈধ দখল রয়েছে।

হেরিটেজ তকমা কি উচ্ছেদ আটকাতে পারে?

দিল্লির এনডিএমসি (NDMC)-এর হেরিটেজ রেজিস্টারে এবং ১৯৭৭ সালের গেজেটে এই মসজিদটির নাম থাকলেও, হেরিটেজ বা ঐতিহ্যবাহী তকমা থাকার অর্থ এই নয় যে সেটি জমির মালিকানা স্বত্ব প্রদান করে। হেরিটেজ তালিকা মূলত ভবন সংরক্ষণ ও রূপান্তরকে নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু সরকারি জমিতে থাকা অবৈধ দখলকে তা আইনি সুরক্ষা দেয় না বা উচ্ছেদ থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতির নিশ্চয়তা দেয় না।

জল ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং আদালতের নির্দেশ

গত ৭ অক্টোবর এই মসজিদের জল এবং বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দেওয়া হয়। এরপর মসজিদের ইমাম মোহম্মদ হারুন দিল্লি হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। তবে গত ১৫ অক্টোবর দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায় ইমামের সেই আবেদন খারিজ করে দেন।

আদালত তাঁর রায়ে উল্লেখ করেন যে, এই মামলার সঙ্গে বেশ কিছু জটিল আইনি প্রশ্ন জড়িত রয়েছে, বিশেষ করে ওই সম্পত্তির ওপর আবেদনকারীর প্রকৃত অধিকার বা আইনি মালিকানা কতটা। তাছাড়া, এনডিএমসি জানিয়েছে যে এলাকায় demolition বা ভাঙার কাজ চলায় জনস্বার্থ ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় দেওয়া সম্ভব নয়। দিল্লির ওয়াকফ বোর্ডের অনুপস্থিতি এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণেও মামলাটি নতুন মোড় নিয়েছে।