সংসদে এবারই প্রথম। বাংলার তরুণ জনপ্রতিনিধি (Member of Parliament)। রাজ্যসভায় এই নিয়ে চতুর্থবার বলতে উঠলেন তিনি। বললেন। এবং অবশ্যই নজর কাড়লেন।
সাংসদের পাশাপাশি বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যানও বটে। ফলে এদিন সামিরুল ইসলামের (Samirul Islam) ৩ মিনিটের বক্তব্যের পুরোটাই জুড়ে রইল শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ। অধ্যক্ষ জগদীপ ধনখড় (Jagdeep Dhankhar) এবং সংসদের তাবড়তাবড় সদস্যদের তিনি স্মরণ করিয়ে দিলেন ভারতাত্মার মর্মবাণী। মর্মবেদনা বললেই যথার্থ প্রয়োগ হয়।
সৌজন্য: সংসদ টিভি
প্রশ্ন হল, সাংসদ সামিরুল ইসলামের বক্তব্যকে ‘বাণী’ থেকে ‘বেদনা’য় সরিয়ে আনছেন কেন এই প্রতিবেদক? কারণ আছে।
কারণ এই যে, সামিরুলের আজকের বক্তব্য রবীন্দ্রকবিতা ‘ওরা কাজ করে’ থেকে শুরু হয়ে পল্লবিত হয়েছে আজকের ভারতবর্ষে শ্রমলাঞ্ছনার ছেঁড়াখোঁড়া ছবিতে। রবীন্দ্রনাথের কবিতায় শ্রমজীবী মানুষের প্রতি যে স্বীকৃতি, তা বর্তমানে সারা দেশ জুড়ে অস্বীকৃত। নয় কি? অস্বীকৃত বলেই তো তরুণ সাংসদ সামিরুল ইসলামকে সংসদের উচ্চকক্ষে পেশ করতে হচ্ছে পরিযায়ী শ্রমিকদের (Migrant Workers) অবর্ণনীয় দুর্দশার পরিসংখ্যান!
করোনাকাল থেকে উত্তরকাশীর দুঃস্বপ্নময় ১৭ দিন – পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বার্থে সামিরুল তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে পরিক্রমা করেছেন এতটাই! ভারতের হিন্দিভাষী বলয়ে বাংলায় কথা বলার জন্য স্বাধীনতার সূতিকাগার থেকে রুটিরুজির তাগিদে ভিনরাজ্যে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ বিশেষণ শুনতে হয়! আর এরাজ্যে বিহার-উত্তরপ্রদেশ থেকে আগত শ্রমিকরা সসম্মানে এবং নিরাপদে তাঁদের কাজ করতে পারেন। পরিযায়ী বাঙালি শ্রমিকদের এই সংকটের কথাও তুলে ধরতে দ্বিধা করেননি সামিরুল ইসলাম। কেননা সত্যই তাঁর আশ্রয়।
রাজ্যের বর্তমান সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের কল্যাণের কথা মাথায় রেখে একটি বোর্ড তথা পর্ষদ বানিয়ে ফেলেছে। দেশে দৃষ্টান্ত হিসেবে এটিই প্রথম। স্বয়ং সাংসদ সামিরুল তার চেয়ারম্যান। বাংলার সরকারের এই শ্রমিককল্যাণকামী উদ্যোগের প্রসঙ্গ টেনে বক্তব্য শেষ করেছেন তরুণতম তৃণমূল সাংসদ।
বার্তা পরিষ্কার। যারা ‘চিরকাল টানে দাঁড়, ধরে থাকে হাল,’ তাদের দুরবস্থা দূরীকরণে এরাজ্যের দৃষ্টান্ত সমগ্র ভারতে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করুক। সামিরুল সেটাই চাইছেন। গণনাতীত শ্রমজীবী মানুষের রক্তঘামের বিনিময়ে নবনির্মিত রাজ্যসভা ভবনে বসে থাকা অন্যান্য অত্যুজ্জ্বল জনপ্রতিনিধিরা চাইছেন তো?
