১৯৯৮ সালের পয়লা জানুয়ারি নীরবে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম হয়েছিল। ২০২৪ সালের পয়লা জানুয়ারি ২৬ বছর পার্টির প্রতিষ্ঠা দিবসে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের নবীন প্রবীন বিতর্কে একে অপরের মধ্যে বাগযুদ্ধে রাজ্য রাজনীতি রীতমত সরগরম হয়ে উঠল। সুব্রত বক্সী, সুদীপ বন্দ্য়োপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্য পাল্টা কুণাল ঘোষ। কি বললেন দেখে নেওয়া যাক।
সুব্রত বক্সী বনাম কুণাল ঘোষ
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা দিবসের কর্মসূচিতে সুুব্রত বক্সী বলেন, ‘‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের সর্ব স্তরের ভারতবর্ষের রাজনীতিতে সাধারণ সম্পাদক। স্বাভাবিক ভাবেই এই নির্বাচনে যদি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াই করেন, নিশ্চিত ভাবে আমাদের ধারণা, উনি লড়াইয়ের ময়দান থেকে পিছিয়ে যাবেন না। যদি লড়াই করেন, তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে লড়াই করবেন উনি।’’ সুব্রত বক্সীর এই বক্তব্যের বিরোধীতা পাল্টা কুণাল ঘোষ বলেন ‘‘রাজ্য সভাপতিকে সম্মান করি। কিন্তু তাঁর বাক্যগঠন নিয়ে আপত্তি রয়েছে। এটা কখনওই কাঙ্ক্ষিত নয়। অভিষেক লড়াইয়ের ময়দানেই রয়েছেন। আর তিনি যে কথা বলতে চান, তা শুনলে দলেরই মঙ্গল।’’
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ফিরহাদ হাকিম বনাম কুণাল ঘোষ
তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেদিন থাকবেন না, বাংলা ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা হয়ে গিয়ে, মায়ের দুধ খাওয়ার জন্য় পাশ থেকে চেষ্টা করবে।” এদিন তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “দেশে রাজনীতির যে পরিবেশ রয়েছে, তাতে বাংলাকে সবসময়ই আলোচনার প্রথমে রাখতে হয়। কারণ, বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনীতিতে আছেন। ” সুদীপের আর ও বক্তব্য ‘তখন মায়ের দুধ খাওয়ার জন্য পাশ থেকে চেষ্টা করলেও, পাবে কি না জানি না। খুব সাবধানে থাকতে হবে।’
ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্য ‘‘যাঁরা পার্টিতে নতুন এসেছেন, অভিষেকের নেতৃত্বে যাঁরা পার্টিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, তাঁদের দলের ইতিহাস জানতে হবে! অনেক লড়াই-আন্দোলন করে দল ক্ষমতায় এসেছে। আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই আন্দোলন করেছেন।’’ ঘটনাচক্রে, নবীনদের কথা বলার সময় ফিরহাদ তাঁর কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিমের নামও করেন। এবং বলেন, ‘‘দলে অনেকেই বলছেন নবীন-প্রবীণের বিতর্ক রয়েছে। যুবদের মাথার উপরেও রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার আমরা যারা প্রবীণ, তাদের মাথার উপরেও রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই।’’
পাল্টা কুণাল ঘোষের বক্তব্য
‘‘যাঁরা শুভেন্দু সম্পর্কে নরম, তাঁরা একাধিক পদ আঁকড়ে বসে রয়েছেন। সারা দিন মমতাদির সঙ্গে ঘোরেন, ১০ খানা পরিকাঠামো নিয়ে রয়েছেন! অথচ শুভেন্দু আক্রমণ করলে আঙুল চুষছেন!’’
‘‘আমাদের নেত্রীকে, অভিষেককে যখন শুভেন্দু বল্গাহীন আক্রমণ করছেন, তখন কয়েক জন মন্ত্রী গোল গোল কথা বলছেন! ভাবখানা এমন, কারও কাছে অপ্রিয় হবেন না। তাঁরা নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহকেও আক্রমণ করছেন না। শুভেন্দুকে সরাসরি চোর বলছেন না।’’
‘‘সিনিয়রেরা মাথার উপর থাকবেন। জুনিয়রেরাও থাকবেন। মমতাদি মাথার উপর থেকে যা নির্দেশ দেবেন, সেই মতো সকলে মিলে কাজ করবেন। তা না-করে একটা বিভাজনের লাইন নেওয়া হচ্ছে!’’
