উত্তরবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জনসংযোগ যাত্রা’য় মিলছে ব্যাপক সাড়া, মালদায় রাহুলের ‘ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা’য় পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘিরে অধীরের অভিযোগ ওড়ালেন মমতা।

গত সোমবার থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাঁচদিনের জন্য ফের উত্তরবঙ্গ সফরে। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে নানাবিধ রাজনৈতিক কারণে তৃণমূল সুপ্রিমোর উত্তরবঙ্গ সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সাতদিনের উত্তরবঙ্গ সফরের পর নতুন বছরে আবারও উত্তরবঙ্গে এলেন মমতা।
নতুন করে উত্তরবঙ্গ গিয়ে ইতিমধ্যে উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া ছাড়াও ইসলামপুরে পদযাত্রা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া রায়গঞ্জে সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। মমতা জানিয়েছেন, তাঁর এই পদযাত্রা সম্পূর্ণ সফল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদযাত্রাকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিতর উৎসাহ, উদ্দীপনা বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, স্থানীয় বাসিন্দা অসংখ্য মহিলা যাত্রাপথের দু’ধারে সমবেত হয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোকে স্বাগত জানিয়েছেন। ‘দিদি, দিদি’ সম্ভাষণ করে ওই মহিলারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁদের ভরসার কথা জানান। অনেককে আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে পুষ্পবৃষ্টি করতেও দেখা গেল।
তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়েছে, নতুন বছরে দলীয় সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরবঙ্গ সফরের অন্যতম প্রধান কারণ আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে পায়ের তলায় দুর্বল মাটিকে শক্ত করা। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের মোট আটটি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে সাতটি কেন্দ্রেই বিজেপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন।
২০২২ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যব্যাপী দু’মাস ধরে চলেছে ‘জনসংযোগ যাত্রা’। বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদযাত্রা ‘জনসংযোগ যাত্রার’ই অন্তর্গত বলে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়েছে।
এদিকে উত্তরবঙ্গে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধির নেতৃত্বে চলেছে ‘ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা’। সাংবাদিকদের প্রশ্ন সত্ত্বেও রাহুলের নেতৃত্বে ‘ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা’ সম্পর্কে মন্তব্য করতে চাননি মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে ইন্ডিয়া জোটের অন্তর্গত কংগ্রেসকে মালদায় দুটি লোকসভা আসন ছেড়ে দিতে তৃণমূল কংগ্রেস রাজি থাকলেও সেই প্রস্তাব খারিজ করেছে কংগ্রেস। উল্টে কংগ্রেস দাবি করছে, পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসকে আরও বেশি লোকসভা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দিতে হবে। কংগ্রেসের ওই প্রস্তাব আমরা কোনওমতেই মানছি না’।
এদিন মমতা আরও বলেন, ‘২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে একটিও আসনে জয়লাভ করতে পারেনি কংগ্রেস’।
এই পরিস্থিতিতে প্রদেশ কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক সম্পর্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুদিন আগে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের একগুঁয়েমি মনোভাবের সমালোচনা করেছেন।
এদিন সিপিএমকে একহাত নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি সিপিএমকে কখনোই ক্ষমা করবো না। সিপিএম পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন থাকার সময়ে ওঁদের হাতে ব্যাপক অত্যাচারিত হয়েছি। আর এখন সেই সিপিএম রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপির সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে চলছে’।
সূত্রের খবর, এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মালদা জেলার ইংলিশবাজার থেকে ‘জনসংযোগ যাত্রা’র সূচনা করেন। মালদা হয়ে মুর্শিদাবাদে যাওয়ার কথা। মুখ্যমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে ঢেলে সাজানো হয়েছে বহরমপুর স্টেডিয়াম। আশা করা হচ্ছে, মুর্শিদাবাদ জেলার মানুষের জন্যেও একগুচ্ছ উন্নয়ন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিকে বুধবার মালদায় রাহুল গান্ধির নেতৃত্বে ‘ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা’ চলাকালীন কাটিহারে রাহুলের গাড়ি লক্ষ্য করে কিছু অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি পাথর ছুঁড়েছে বলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী অভিযোগ করেছেন।
অধীরের এই অভিযোগের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা বলেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে এধরনের কোনও ঘটনা ঘটেনি। খোঁজ নিয়ে জেনেছি ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের কাটিহারে’। পাশাপাশি, এই ঘটনার তীব্র নিন্দাও করেছেন তিনি।
