লেখক- বিশ্বজিত্ ভট্টাচার্য
১৩ নভেম্বরে রাজ্যের ছ’টি বিধানসভা উপ নির্বাচন। তারমধ্যে একটি নৈহাটি বিধানসভা কেন্দ্র। এই আসনটি সি পি আই এম এল কে ছেড়ে দিয়েছে সি পি এম। ফলে বামফ্রন্ট নামক চালচিত্রে যে দলগুলি ছিল তার বাইরে এক নতুন বাম শক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই সম্ভাবনা রাজ্য রাজনীতিতে কোনো নতুন মাত্রা যোগ করবে কিনা তার ও পরীক্ষা হবে ১৩ নভেম্বর। এই বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক পার্থ ভৌমিক ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতে সংসদে যাওয়ার ফলে এই আসন টি ফাঁকা হয়। নৈহাটি বিধানসভা কেন্দ্রে সি পি আই এম এল প্রার্থী দেবজ্যোতি মজুমদারের হয়ে প্রচারে দেখা যাচ্ছে সি পি আই এম য়ের স্থানীয় নেতা কর্মীদের। এই দৃশ্য এ রাজ্যে আগে দেখা যায়নি।

২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এইরকম একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তৎকালীন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক অনিল বিশ্বাস নির্বাচনী ঐক্যের প্রস্তাব নিয়ে মধ্য কলকাতার ক্রীক রো তে সি পি আই এম এল এর দফতরে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরে আলোচনা আর এগোয়নি। ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর পরে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউ পি এ সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দিয়েছিল সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট। এর পরে ২০১৫ সালে এই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট আসন সমঝোতা করে। এই বোঝাপড়া ২০২১ য়ের বিধানসভা পর্যন্ত বজায় ছিল। এবার রাজ্যের ছ’টি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে সেই বোঝাপড়া থেকে বেরিয়ে নতুন বাম ঐক্যের পথ নিয়েছে বামফ্রন্ট।

সাম্প্রতিক সময়ে আর জি করে ডাক্তারি পড়ুয়া ছাত্রীর খুন, ধর্ষণের ঘটনা কে কেন্দ্র করে যে উত্তাল আন্দোলন দেখা গিয়েছে তা অরাজনৈতিক হলেও কিছু অন্য দৃশ্য ও ধরা পড়েছে। সেই দৃশ্যে বাম , অতি বাম বা এস ইউ সি র দলীয় প্রতীক বা পতাকা ছাড়া উপস্থিতি আঁচ করা গিয়েছে। কিন্তু একেবারেই বাদ পড়েছে বিজেপি। তবু সিপিএম এর ভোট কমে যেখানে দাঁড়িয়েছে তাতে এই পরিস্থিতিতেও যে তারা প্রধান বিরোধী মুখ হয়ে উঠতে পারবে এমন সম্ভাবনা কম। অনেকেই মনে করছেন অভূতপূর্ব এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা বিজেপির পক্ষে যেমন হতাশার তেমনই বাম দলগুলির কাছে কিছুটা আশার আলো। কারণ, কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের মতিগতি যে তৃনমূলের ব্যাপক বিরোধীতার পক্ষে নয় তা অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, মুখে বৃহত্তর বামফ্রন্টের কথা বললেও নিজেকে বড় হিসেবে দেখার কারণে ওই পথে সিপিএম খুব একটা এগোতে পারে নি।

এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সি পি এম সেই পথ ছেড়ে নতুন পথ নিয়েছে। এবারের উপনির্বাচনে সি পি এম ছ’টি আসনের মধ্যে একটি আসনে লড়ছে। বাকি আসন গুলি শরিক বাম দল গুলিকে ছেড়ে দিয়েছে। কার্তিকের শেষ লগ্নে নতুন বাম ঐক্যের এই পরীক্ষা যদি সাফল্যের দিকে এগোয় তাহলে রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ দেখা যাবে। তবে, প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ বাড়াতে পারলেও বিরোধী পরিসরে অবস্থান বদল হবে।
