মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন একমাত্র বিজেপি বিরোধী মুখ

Mamata on modi

লেখক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য

দিল্লি ভোটের ফল বিজেপির কাছে মধুর প্রতিশোধ। এই ভোটে শুধু আঁতুড়ঘরে আম আদমি পার্টির প্রতিস্পর্ধা পর্যুদস্ত হয়েছে তা নয়, নয়া দিল্লি বিধানসভা কেন্দ্রে আপ এর কর্ণধার অরবিন্দ কেজরিওয়াল পরাজিত। ভোটের পাটিগণিতে কোথায় কোথায় আপ হোঁচট খেয়েছে তার খোঁজ চলছে চলুক। চুল চেরা হিসেব-নিকেশের বাইরে সাদা চোখে যা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে তা হল রাজনীতিতে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপির বিরোধী পরিসরে একটি শক্তপোক্ত খুঁটি মাটিতে পড়ল। এখন বিরোধী চরাচরে একমাত্র দাঁড়িয়ে রইলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৪ সালে বিজেপির জয়রথে গতি জুগিয়েছিল অন্না হাজারের ইউ পি এ সরকারের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগে আন্দোলন। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউ পি এ সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারে নরেন্দ্র মোদীর অন্যতম প্রধান অস্ত্র ছিল এই দূর্নীতির অভিযোগ। তবে, এই একই ময়দান থেকে যে আরও একটি শক্তি গোকুলে বাড়ছিল তা অনুমান করতে পারেনি বিজেপি। ভারত জুড়ে নরেন্দ্র মোদীর জাদুদন্ড যখন বিরাজ করছে তখন ২০১৫ সালে দিল্লির নির্বাচনে বিজেপি তা বুঝেছিল। দূর্নীতির বিরোধী আন্দোলনে অন্না হাজারের সঙ্গী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ‘রাজনৈতিক স্টার্টআপ ‘ আপের কাছে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছিল বিজেপি ও কংগ্রেস। তৃতীয় বার লোকসভা নির্বাচনে জিতলেও নরেন্দ্র মোদীর ভাবমূর্তিকে ‘দূর্বল প্রধানমন্ত্রী’ ছাপটাও যেন ঘিরে ধরেছিল। এই পরিস্থিতিতে হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র বিজয় কিছুটা সেই ছাপ ফিকে করলেও সম্পুর্ন হোয়াইট ওয়াশ করে দিল দিল্লি বিজয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প , অথবা শি জিনপিং র যেই হোন এবার কূটনৈতিক পাশা খেলায় প্রধানমন্ত্রী মোদীর আত্মবিশ্বাসী ভাবমূর্তি টি অনেক বাড়িয়ে দিল দিল্লির ফল। এবার বিজেপির চাঁদমারি ২০২৬ এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। ২০১৪ তে লোকসভা নির্বাচনের ফল নরেন্দ্র মোদীর যে অপ্রতিরোধ্য ভাবমূর্তি গড়ে দিয়েছিল তা প্রথম ধাক্কা খায় ২০১৫ সালে বিহার বিধানসভা নির্বাচনে। নৌকা বদলের জন্য যে খ্যাতি নীতিশ কুমারের তা ওই নির্বাচনে বিজেপির চোখে জ্বালা ধরিয়ে ছিল। গেরুয়া শিবির ছেড়ে লালু প্রসাদের হাত ধরে বিজেপি কে পর্যদুস্ত করে জাতীয় রাজনীতিতে নিজেকে মোদীর প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছিলেন নীতিশ। বর্তমানে তিনি ফের পদ্মসঙ্গী। ভারত রাষ্ট্রীয় সমিতির প্রধান এবং তেলেঙ্গানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও নিজেকে বিজেপি বিরোধী শিবিরের প্রধান মুখ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ২০২৩ এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজপাট হারিয়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গিয়েছেন। বিজেপির সঙ্গে চূড়ান্ত বিরোধীতার রাস্তা থেকে দূরে থাকলেও বিরোধী পরিসরে যথেষ্ট ওজনদার নেতা ছিলেন ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেডি প্রধান নবীন পট্টনায়েক। ২০২৪ এ ওড়িশা বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এন ডি এ জোটের কাছে দীর্ঘদিনের শাসন পাট হারিয়ে তিনিও এখন অস্তাচলে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ক্যানভাসে বিরোধী পরিসরে একমাত্র উজ্জ্বল উপস্থিতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৯ এ লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিম বঙ্গে ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টি জিতেছিল বিজেপি। এর মাঝে ২১ এর বিধানসভা নির্বাচন এবং বেশ কয়েকটি উপনির্বাচন , পঞ্চায়েত নির্বাচন জিতে ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপির আসন সংখ্যা ১৮ থেকে ১২ তে নামিয়ে এনেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। একে একে বিজেপি বিরোধী দীপ নেভার পরে একমাত্র জেগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ। এই ২০২৬ এ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিকে চোখ থাকবে দেশের, বিদেশের।