সততা মানবতা ভালবাসার নাম অধ্যাপক সামিরুল ইসলাম

MP Samirul Islam

তারিক আনোয়ার

বীরভূম

বিশ্ববলয়ে মাঝে মাঝে অসামান্য বিরল কিছু মানুষের দেখা মেলে। যাঁরা সাধারণ জীবন যাপনের মধ্যে দিয়ে বেড়ে উঠে। ছাত্র অবস্থায় হঠাৎ করে বাবাকে হারানো বাড়িতে অসুস্থ মা, বড় পরিবার।একসময় দিশেহারা এই মানুষটা ভেবেছিল হয়তো সব শেষ, কিন্তু ঈশ্বর ওনার কোন কিছু শেষ করতে দেননি, একজন গরিব চাষার ঘরের ছেলে, বাড়িতে দাদারা প্রায় সব চাষবাসের সঙ্গে যুক্ত এবং ছোটখাটো ব্যবসা সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ বলা যেতেই পারে দিন আনতে পান্তা ফুরাই এমন একজন পরিবারের একজন সন্তান।

 শ্রম-মেধা সৃজনশীলতা সর্বোপরি জনকল্যাণ দায়িত্ববোধের সর্বোচ্চ প্রকাশ দেখিয়ে গভীর স্বপ্নবিলাসী আত্মজিজ্ঞাসার সার্থক বাস্তবায়ন ঘটিয়ে জাগিয়ে তোলেন জনপদ-জনসমাজ, জনগোষ্ঠী এবং পশ্চিমবাংলার বিভিন্ন প্রান্তে। কোন অহংবোধ নয়, কোন আত্মকেন্দ্রিকতা নয়, কোন কুক্ষিগত স্বেচ্ছাচারের প্রতিভূ নয়, জনমানুষের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে স্বচ্ছতা নিয়ে তাঁর পথচলা দেশ গড়ার নির্মোহ অবিচল সংগ্রাম তাঁকে কালের পাতায় করে তোলে সর্বজন বরণীয় স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে।

নিজেই গড়ে তোলেন একসময় একটা অরাজনৈতিক সংগঠন নাম দিয়েছিলেন বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চ। বাকি সব বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামী মানুষদের মতো এই মানুষটা ভাবতে থাকেন গরিব মানুষদের নিয়ে, চাষীদের নিয়ে।  একসময় তিনি দেখতে পান এই বাংলার হাজারো মানুষ কৃষিকাজের খরচ জগতে না পেরে,সংসারের খরচ জোগাতে না পেরে চলে যাচ্ছেন বাইরে কাজ করতে অর্থাৎ হয়ে যাচ্ছেন তারা পরিযায়ী শ্রমিক।তিনি দেখতে পান এই সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকেরা দেশবিদেশে কাজ করতে গিয়ে যখন মারা যাচ্ছেন তখন কিন্তু লাশ/মৃতদেহ তাদের বাড়িতে আসছে না। কারণ পরিবারের লোকদের কোন আর্থিক সামর্থ্যও নেই সেই দেহটাকে বাড়ি নিয়ে আসার মতো। অর্থাৎ পরিবারের মানুষগুলো সেই সমস্ত ভাইদের বাবাদের শেষ দেখাটুকু দেখতে পাচ্ছেন না,।তিনি ভাবতে থাকেন এবং বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চের উদ্যোগে তিনি পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন রাজ্য  থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে।

অতি মহামারি লকডাউনের সময় এই মানুষটা তার তিন মাসের ছোট্ট বাচ্চাকে বাড়িতে রেখে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উঠে পড়ে লেগে পড়েন সমস্ত গরিব মানুষদের সাহায্যের জন্য। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য, তাদের বাড়ি ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন রকমের কাজ করতে থাকেন ।শুধু তাই নয় যে সমস্ত জায়গায় আদিবাসী ভাই বোনেরা খাবার পাচ্ছিলেন না সেই জায়গায় চালু করেন তিনি কমিউনিটি কিচেন। এই ভাবে তিনি হয়ে উঠেন সবার কাছে অনুকরণীয় অনুসরণীয়।

যার তুলনা, প্রশংসা, সুনাম, তার কর্মের গুণগান করার জন্য অভিধানের শব্দমালা যথেষ্ট হয় না। তিনি আর কেউ নন, বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চের রাজ্য সভাপতি , রসায়নের অধ্যাপক তথা বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম। তিনি মানবতাবাদী, মানবতার মহান সেবক, তিনি মানবতাবাদীদের লিডার, সকল স্বেচ্ছাসেবকদের আইকন-আইডল, হাজারো স্বেচ্ছাসেবকের অনুপ্রেরণার ব্যাক্তি, একজন সাদা মনের মানুষ,। সবার কাছে যিনি সবার কাছে পরিযায়ী শ্রমিকের অন্যতম কান্ডারী নামেই জনপ্রিয়।

২০২০ সালের মার্চের শুরুতে দেশে যখন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর সারাদেশে সৃষ্টি হয় এক ভয়াবহ পরিস্থিতি। করোনা নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে জড়িতদের মাঝেও তৈরি হয় অজানা আতঙ্ক। অদেখা-অজানা ভাইরাসের আতঙ্কে মানুষ হয়ে পড়েন ঘরবন্দী। তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে  বিনামূল্যে বিতরন করেন  সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক ও খাবার ও উদ্ধারকার্য তার পুরো টিম বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চের সহকর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে।

শুধু তাই নয়, আমার তাঁর সঙ্গে  দীর্ঘ ৬ বছরের পথচলায় আমি দেখেছি, নিজে না খেয়ে অন্যকে খাওয়াতে, অন্যের বিপদে ছুটে গিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে সাধ্য অনুযায়ী বিপদমুক্ত করতে। আমি দেখেছি, সুবিধা বঞ্চিত, অসহায়, মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের ইচ্ছাকে বিসর্জন দিয়ে মানুষের ভালোবাসা কুড়াতে।আমি শিখেছি তাঁর কাছ থেকে, ‘মানুষ মানুষের জন্য, এটাই হোক মানুষের ধর্ম’। তাঁর চেতনা, আদর্শ, নীতি সব কিছু দেখে কবি গুরুর একটা কথা মনে পড়ে:- “তোমার চেতনার রঙে পান্না হলো সবুজ, আমি চোখ মেলিলাম আকাশে, জ্বলে উঠল আলো পূর্ব পশ্চিমে।”