New survey finds large majority of Americans do not support Israel
মনিরুল হোসেন :
গাজায় শান্তি ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর প্যালেস্তাইনের হামাসের উদ্দেশ্যে ২০ দফা শর্ত আরোপ করেছেন। এই শর্তগুলি আগামী তিন চার দিনের মধ্যে মানলেই প্যালেস্তাইনের উপর হামলা বন্ধ করবে ইসরাইল। তা না হলে হামাসকে চরম মূল্য দিতে হবে বলে হুঙ্কার দিয়েছেন ট্রাম্প।
ইসরাইয়েলে খোলাখুলি সমর্থনের পরও ট্রাম্পের এই শান্তি উদ্যোগের পিছনে বড় কাজ করছে ইসরাইলের প্রতি মার্কিন নাগরিকদের সমর্থন দ্রূতহারে কমছে। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা ইউনিভার্সিটির নতুন জনমত সমীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে।
গাজায় ইসরায়েলের হামলার প্রায় দুই বছর পর ইসরাইয়েলের প্রতি মার্কিন নাগরিকদের সমর্থনে আমূল বদল হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা ইউনিভার্সিটির নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, বিপুলসংখ্যক নাগরিক এই সংঘাত মোকাবিলায় ইসরায়েলি সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র নেতিবাচক মতামত ব্যক্ত করেছেন।
টাইমস ১৯৯৮ সাল থেকে ভোটারদের সহানুভূতি নিয়ে সমীক্ষার পর এই প্রথম ইসরায়েলিদের চেয়ে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কিছুটা বেশি ভোটার সমর্থন করেছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ওপর হামাসের হামলার পর মার্কিন ভোটারদের বেশির ভাগই ফিলিস্তিনিদের চেয়ে ইসরায়েলিদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। সে সময় ৪৭ শতাংশ ইসরায়েলকে এবং ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।
বর্তমানে নতুন সমীক্ষায় অনেকটাই মার্কিন মতের পরিবর্তন হয়েছে। সমীক্ষায় ধরা পড়েছে ৩৪ শতাংশ ইসরায়েলিদের পক্ষে এবং ৩৫ শতাংশ ফিলিস্তিনিদের পক্ষে মত দিয়েছেন। ৩১ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা সংশয়ে আছেন অথবা দুই পক্ষকেই সমানভাবে সমর্থন করেছেন।
অধিকাংশ মার্কিন ভোটার এখন ইসরায়েলকে অতিরিক্ত অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা পাঠানোর বিরোধিতা করছেন। ৭ অক্টোবরের হামলার পর জনমতে এটি একধরনের বড় পরিবর্তন। প্রতি ১০ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬ জন বলেছেন, বাকি ইসরায়েলি জিম্মিরা মুক্তি পাক বা না পাক বা হামাস নির্মূল হোক বা না হোক, তবু ইসরায়েলের উচিত সামরিক অভিযান বন্ধ করা।
২০২৫ সালের ২২ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে মোট ১ হাজার ৩১৩ জন ভোটারের মধ্যে এই সমীক্ষা চালানো হয়েছে।
৪০ শতাংশ ভোটার বলেছেন, ইসরায়েল গাজায় ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা চালাচ্ছে।অথচ প্রায় দুই বছর আগে ডেমোক্র্যাটরা সমানভাবে বিভক্ত ছিল। তখন ৩৪ শতাংশ ইসরায়েল এবং ৩১ শতাংশ ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। এখন সারা দেশের সাধারণ ডেমোক্র্যাটরা বিপুলভাবে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে। ৫৪ শতাংশ ডেমোক্র্যাট বলেছেন, তাঁরা ফিলিস্তিনিদের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল, যেখানে মাত্র ১৩ শতাংশ ইসরায়েলের প্রতি বেশি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন।
