সুনালি বিবির পর এবার বাকিদের বাংলাদেশ থেকে ফেরাতে সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশ

Sonali case

নিজস্ব সংবাদ

সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশে বাংলাদেশ থেকে বীরভূমের বাড়িতে আট বছরের সন্তানকে নিয়ে ফিরেছে সুনালি বিবি। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো থাকতে বাধ্য হচ্ছেন সুনালি বিবির স্বামী দানিশ শেখ সঙ্গে বীরভূমের তাঁদেরই প্রতিবেশী সুইটি বিবি ও তাঁর দুই নাবালক সন্তান। এবার এই ৪ জনকে বাংলাদেশ থেকে দেশে ফেরানোর জন্য কেন্দ্র সরকারকে এদের নথিপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রীম কোর্ট। পাশাপাশি এদের নথিপত্র খতিয়ে দেখার জন্য কেন্দ্র সরকারেক জানাল দেশের শীর্ষ আদালত।

৬ মাস আগে দিল্লীর রোহিনী এলাকা থেকে এদের বাংলাদেশী সন্দেহে গ্রেফতার করে হেলিকপ্টারে আসাম সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর তাঁদের বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়। সেখান থেকে অনুপ্রবেশকারী হিসাবে বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জের জেলে পাঠানো হয়। বাংলাদেশের কোর্টে এই ৬ জনকে ভারতীয় বলে ঘোষণা করে।তারপর বহু আইনী জটিলতার কাটিয়ে গত সপ্তাহে বীরভূমে ফিরেছে সুনালি।

আজ সুইটি দানিশ শেখদের ফেরাতে তাদের পরিবারের সদস্যরা সুপ্রীম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। তার ভিত্তিতে সুপ্রীম কোর্ট এই নির্দেশ দিয়েছে।আগামী ৬ জানুয়ারী এই মামমলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।

সুপ্রীম কোর্টের আজকের নির্দেশের পর রাজ্যসভার সাংসদ পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সামিরুল ইসলাম সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন –“ আমি ভারতীয় বিচারব্যবস্থাকে শ্রদ্ধা জানাই এবং   মাননীয়  সুপ্রিম কোর্টের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আজ আবারও অবৈধভাবে বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের বেআইনিভাবে  বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুনানি হয়। 

মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট সুনালির স্বাস্থ্যের অবস্থা ও তার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। ভারতের প্রান্তিক নাগরিকদের প্রতি আদালতের এই সংবেদনশীলতার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ এবং সময়ে সময়ে এই বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ ও নির্দেশের প্রশংসা করছি।  আদালতের নির্দেশের ফলেই সুনালি ও তার নাবালক পুত্রকে  প্রায় ছয় মাসের কষ্টকর  অবস্থার পর বাংলাদেশ থেকে অবশেষে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

এখন ফেরানোর পালা সুনালির স্বামী, এবং সুইটি বিবি ও তার দুই নাবালক পুত্রের, যারা আজও বাংলাদেশে রয়েছে।

আজ মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন ওই চারজনের নথিপত্র আদালতে জমা দেওয়া হোক।  একইসঙ্গে কেন্দ্র সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে আবেদনকারীদের দাবির ভিত্তিতে সেই নথিগুলি যাচাই করতে।

এই মামলাটি পুনরায় শুনানি হবে আগামী ৬ জানুয়ারি, ২০২৬।

বাংলা ভাষাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের অধিকারের জন্য আমাদের লড়াই—এবং বাংলা-বিরোধী জমিদারদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম—চলতে থাকবে।  আমাদের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আমরা ঐ হতদরিদ্র মানুষগুলোর পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব।  আমাদের মানুষের ওপর নির্যাতন বা তাদের অবৈধভাবে বিদেশে পাঠানো—আমার আপনার বাংলা কখনও সহ্য করবে না।“

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *