Division Bench directs State to clarify stance on removing loudspeakers from mosques
নিজস্ব প্রতিবেদন
কলকাতা: রাজ্যের বিভিন্ন মসজিদ থেকে মাইক বা সাউন্ড অ্যাম্প্লিফায়ার খুলে ফেলার ঘটনায় রাজ্য সরকারের অবস্থান জানতে চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। এই সিদ্ধান্তের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলায় (PIL) আগামী ১৮ অগস্টের মধ্যে রাজ্যকে তাদের লিখিত বক্তব্য পেশ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানতে চেয়েছে, মসজিদ থেকে মাইক সরাতে বা বন্ধ রাখতে প্রশাসনের তরফে কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি না।
গত সোমবার আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার শুনানিকালে মামলাকারী অভিযোগ করেন, কোনো লিখিত নির্দেশ বা সরকারি বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই কেবল মৌখিক আদেশের ভিত্তিতে রাজ্য জুড়ে প্রায় ৪,০০০ মসজিদ থেকে আজানের মাইক খুলে ফেলা হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে পুলিশ ইমামদের থানায় ডেকে পাঠিয়ে বা সরাসরি মসজিদে গিয়ে হুমকি দিয়ে মাইক খোলানোর কাজ করেছে। এমনকি, পুলিশ জুতাসমেত মসজিদের মাথায় উঠে মাইক খুলেছে বলেও গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে যুক্ত পেশ করে বলেন, সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শব্দবিধি মেনে মাইক ব্যবহারে কোনো আইনি বাধা নেই। হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ভগবতী প্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চেরও রায় রয়েছে যে শব্দমাত্রা বজায় রেখে আজানের জন্য মাইক ব্যবহার করা যাবে। কোনো লিখিত নোটিস বা নিয়ম ভাঙার অভিযোগ ছাড়াই কেন ধর্মীয় আচার পালনে এমন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অন্যদিকে, মামলার সওয়াল-জবাব পর্বকে কেন্দ্র করে আদালত কক্ষে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (AG) সুরজিৎ নাথ মিত্রের তীব্র বচসা বাধে। এজি সুরজিৎ নাথ মিত্র আদালতের কাছে মামলাটি সরাসরি খারিজের আবেদন জানান এবং মামলাকারীর ওপর জরিমানা ধার্যের দাবি তোলেন। সরকারের পক্ষে সওয়াল করে তিনি জানান, কোনো পুলিশ কর্মকর্তা মাইক খোলার নির্দেশ দেননি। এটি সম্পূর্ণরূপে মৌখিক জল্পনার ওপর ভিত্তি করে দায়ের করা একটি মামলা। এজি প্রশ্ন তোলেন, চার হাজার মাইক খোলার দাবি করা হলেও সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ পেশ করা হয়নি, এমনকি আজ পর্যন্ত কোনো ইমামও আদালতের দ্বারস্থ হননি।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানতে চায়, “চার হাজার মাইক খোলার তথ্য কোথায় পেলেন?” আদালত মামলাকারীকে নির্দিষ্ট কোন জেলা বা কোন মসজিদ থেকে মাইক খোলা হয়েছে, তার সঠিক তথ্য জমা দিতে নির্দেশ দেয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, “আজান দিতে কেউ বাধা দিচ্ছে না। মাইক ব্যবহারে প্রশাসনিক অনুমতি চাওয়া হয়নি কেন?”
এদিকে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও জলঘোলা শুরু হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী মন্তব্য করেছেন যে, সরকার কোনো নতুন আইন আনেনি, বরং আদালতের পুরনো নির্দেশই বলবৎ করা হচ্ছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্দেশিকা মেনে কেবল মসজিদ নয়, মোট ৪,২০০টি মসজিদ এবং ১,০৯৬টি মন্দির থেকেও সাউন্ড সিস্টেম খোলা হয়েছে।
আদালত আপাতত রাজ্য সরকারকে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করার সুযোগ দিয়েছে। ১৮ অগস্ট পরবর্তী শুনানিতে রাজ্য সরকার তাদের লিখিত জবাব এবং মামলাকারী অতিরিক্ত তথ্য পেশ করার পরই হাইকোর্ট পরবর্তী নির্দেশ জারি করবে।
