দলমা সীমান্তে যৌথ বাহিনীর মেগা অপারেশন: ভুয়ো এনকাউন্টারের আশঙ্কায় সরব মানবাধিকার সংগঠন

প্রতীকি ছবি(এআই)

Joint force operation at the Dalma border.

রূপম চট্টোপাধ্যায়

পুরুলিয়া: স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগের রাতে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের সীমানা সংলগ্ন দলমা পাহাড়ের জঙ্গল ঘিরে বিশাল যৌথ অভিযান শুরু করল পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী। সূত্রের খবর, এই যৌথ বাহিনীর ঘেরাটোপে আটকে পড়েছেন সিপিআই (মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতা অসীম মণ্ডল ওরফে ‘আকাশ’ সহ অন্তত ৬-৭ জন সক্রিয় কর্মী। তবে এই অভিযানের খবর প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। মানবাধিকার সংগঠনগুলির আশঙ্কা, আইনের তোয়াক্কা না করে ‘ভুয়ো সংঘর্ষের’ নামে তাঁদের হত্যা করা হতে পারে।

দলমার গভীরে রুদ্ধশ্বাস ঘেরাবন্দি

পুরুলিয়ার বান্দোয়ান ও ঝাড়খণ্ডের সীমান্ত এলাকা জুড়ে গত কয়েকদিন ধরেই যৌথ বাহিনীর আনাগোনা বাড়ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, ঝাড়খণ্ড পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর একটি বিশেষ দল দলমা পাহাড়ের ঘন জঙ্গল ঘিরে ফেলে।

  • টার্গেট: সিপিআই (মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির প্রভাবশালী সদস্য অসীম মণ্ডল (আকাশ)।
  • অভিযানস্থল: বান্দোয়ান-ঝাড়খণ্ড সীমানার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দলমা পাহাড়ি অঞ্চল।
  • পরিস্থিতি: সম্পূর্ণ জঙ্গল এলাকা সিল করে দিয়ে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছ যৌথ বাহিনী।

আইন বহির্ভূত হত্যার আশঙ্কা ও এপিডিআর-এর বার্তা

ভারতের ৮০ তম স্বাধীনতা দিবসের আলোয় যখন দেশ সাজো সাজো রব, ঠিক তখনই এই অভিযানে রক্তপাতের আশঙ্কা করছে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি (APDR)। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ আহমেদ এবং সভাপতি অধ্যাপক সঞ্জীব আচার্য এক যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ যাই হোক না কেন, অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আদালতের মুখোমুখি করাই সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

“প্রজাতন্ত্র তার সন্তানকে হত্যা করতে পারে না” — সুপ্রিম কোর্টের এই ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ মনে করিয়ে দিয়ে এপিডিআর-এর শীর্ষ নেতৃত্ব জানান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একাধিক রিপোর্টে বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশি এনকাউন্টারকে পূর্বে ‘ভুয়ো’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এপিডিআর-এর বক্তব্য, কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ থাকলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু তথাকথিত এনকাউন্টারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যা সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আদালত, প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমকে এই বিষয়ে কড়া নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিচারের মুখে ‘অপারেশন কাগার’

উল্লেখ্য, কেন্দ্র সরকারের বিতর্কিত ‘অপারেশন কাগার’ চলাকালীন গত দুই বছরে ৪৫০-এরও বেশি মাওবাদী নেতা-কর্মী ও স্থানীয় আদিবাসী মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলছে মানবাধিকার সংগঠনগুলি। ছত্তীসগঢ়, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে ধারাবাহিকভাবে চলা এই সব অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন দেশের বহু বিশিষ্ট নাগরিক ও আইনি বিশেষজ্ঞ।

দলমা পাহাড়ের এই সাম্প্রতিক ঘেরাবন্দি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে এবং প্রশাসন আইনি পথ অবলম্বন করে নাকি ফের কোনো এনকাউন্টারের খবর সামনে আসে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও মানবাধিকার মহলের।