বাঁকুড়ায় ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানের জের: পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে বিজেপি নেতাসহ গ্রেফতার ৮

Aftermath of the ‘Fix the Schools’ campaign: Accusations of a fatal beating.

বিশেষ প্রতিবেদন

বাঁকুড়া / কলকাতা: বাঁকুড়া জেলার ইন্দাসে ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানে অংশ নিয়ে সরকারি বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ পরিকাঠামো নিয়ে সোচ্চার হওয়ার ‘শাস্তি’ হিসেবে এক ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) ভলান্টিয়ারের বাড়িতে হামলা ও তাঁর বাবাকে পিটিয়ে হত্যার মারাত্মক অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। নিহতের স্ত্রীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে এক বিজেপি নেতাসহ মোট আট জনকে গ্রেফতার করেছে। নিহত ব্যক্তির নাম জনাব মফিক। গত ১৫ আগস্ট রাতে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেরি-যোগের অভিযোগ উঠলেও তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

ঘটনার সূত্রপাত ও ভয়াবহ হামলা সিজেপি-র বক্তব্য ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ জুলাই দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন ইন্দাস থানার করিশুণ্ডা গ্রামের যুবক শেখ আব্দুল হাফিজ। গত ২৭ জুলাই সেখান থেকে ফিরে, দলীয় নেতৃত্বের নির্দেশে ১৩ আগস্ট তিনি করিশুণ্ডা পশ্চিমপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঠনপাঠনের পরিস্থিতি ও পানীয় জল-শৌচাগারের হাল খতিয়ে দেখতে যান। সেখানকার এক শিক্ষকের কাছে অনুমতি চাইলে তিনি পরদিন আসতে বলেন। অভিযোগ, ওই শিক্ষকই পরে স্থানীয় নেতাদের বিষয়টি জানান।

ঐদিন রাত ৮:৩০ নাগাদ একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী হাফিজের বাড়িতে জোরপূর্বক ঢুকে পড়ে। তাদের দাবি ছিল, স্কুলের পরিকাঠামো নিয়ে কথা বলার জন্য হাফিজকে ক্ষমা চেয়ে ভিডিও রেকর্ড করতে হবে। হাফিজ রাজি না হওয়ায় পরিবারের ওপর নির্মম হামলা চালানো হয়, যাতে হাফিজ ও তাঁর বাবা জনাব মফিক গুরুতর জখম হন। মাথায় মারাত্মক আঘাত পাওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১৫ আগস্ট তাঁর মৃত্যু ঘটে।

পুলিশি পদক্ষেপ ও আইনি ধারায় মামলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃশানু রায় জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে এই ঘটনায় যুক্ত মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের রবিবার বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়।

ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩২৯(৪), ৩৩১(৪), ১২৬(২), ১১৭(২), ১১৮(২), ৩০৪(২), ৩৫১(৩), ১০৯, ১০৩(১), ৬১(২), ৩২৪(৪) এবং ৩(৫) নম্বর ধারায় খুন, খুনের চেষ্টা, নৃশংসভাবে মারধর, বেআইনি হামলা ও সম্পত্তি নষ্ট করার মতো একাধিক জামিনঅযোগ্য গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদের খোঁজেও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক চাপানউতোর ১৬ আগস্ট (রবিবার) রাজ্য সচিবালয় নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিজেপি কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন:“অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্তদের ধরা হয়েছে, বাকিদেরও দ্রুত ধরা হবে। এখানে কোন দলীয় যোগ নেই। তারা প্রত্যেকেই অপরাধী এবং আইন অনুযায়ী তাদের শাস্তি হবে।”অন্যদিকে, বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ও রাজ্য মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনো অপরাধীকে দল আড়াল করবে না এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। তবে সিজেপি সমর্থকদের হুঙ্কার—ভয় দেখিয়ে বা রক্ত ঝরিয়ে শিক্ষা ও জনস্বার্থের আন্দোলনের মুখ বন্ধ করা যাবে না।