Yoga for Diabetic Patients
নিজস্ব প্রতিবেদন
ডায়বেটিস এখন ঘরে ঘরে পরিচিত একটি স্বাস্থ্যসমস্যা। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর সঙ্গে নিয়মিত যোগাসন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন অনেকের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—শুধু যোগাসন করলেই ডায়বেটিস সেরে যাবে বা ওষুধ বন্ধ করা যাবে, এমন দাবি সঠিক নয়। বিশেষ করে টাইপ-২ ডায়বেটিসে নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করতে পারে।
১. ভুজঙ্গাসন
5
উপুড় হয়ে শুয়ে দুই হাতের সাহায্যে শরীরের সামনের অংশ ধীরে ধীরে ওপরে তুলতে হয়।
সম্ভাব্য উপকার: শরীরের নমনীয়তা বাড়াতে ও হালকা শারীরিক সক্রিয়তায় সাহায্য করে।
সময়: ১৫–৩০ সেকেন্ড করে ২–৩ বার।
২. ধনুরাসন
উপুড় হয়ে শুয়ে হাঁটু ভাঁজ করে দুই পায়ের গোড়ালি হাত দিয়ে ধরে শরীরকে ধনুকের মতো বাঁকাতে হয়।
সম্ভাব্য উপকার: শরীরের পেশি সক্রিয় রাখতে এবং নমনীয়তা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
সময়: ১০–২০ সেকেন্ড করে, ধীরে ধীরে অভ্যাস বাড়ান।
৩. পশ্চিমোত্তানাসন
পা সামনের দিকে সোজা রেখে বসে ধীরে ধীরে শরীর সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে পায়ের দিকে হাত বাড়াতে হয়।
সম্ভাব্য উপকার: শরীরের নমনীয়তা ও শিথিলতায় সহায়ক হতে পারে।
সতর্কতা: কোমর বা পিঠের সমস্যা থাকলে জোর করে ঝুঁকবেন না।
৪. অর্ধ মৎস্যেন্দ্রাসন
বসে শরীরকে একদিকে ধীরে ধীরে মোচড় দিতে হয়।
সম্ভাব্য উপকার: মেরুদণ্ডের নমনীয়তা ও শরীরের নড়াচড়ার ক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
সময়: দুই দিকে ১৫–৩০ সেকেন্ড।
৫. সেতুবন্ধাসন
চিত হয়ে শুয়ে হাঁটু ভাঁজ করে কোমর ধীরে ধীরে ওপরে তুলতে হয়।
সম্ভাব্য উপকার: শরীরের বিভিন্ন পেশি সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
সময়: ১৫–৩০ সেকেন্ড, ২–৩ বার।
৬. বদ্ধ কোণাসন
দুই পায়ের পাতা একসঙ্গে মিলিয়ে বসে হাঁটু দু’টি দু’পাশে ছড়িয়ে দিতে হয়।
সম্ভাব্য উপকার: নিতম্ব ও পায়ের নমনীয়তা বজায় রাখতে সহায়ক।
সময়: ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট।
৭. শবাসন
চিত হয়ে আরাম করে শুয়ে চোখ বন্ধ রেখে ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে হয়।
সম্ভাব্য উপকার: মানসিক চাপ কমানো ও শরীরকে শিথিল করতে সাহায্য করতে পারে। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণও ডায়বেটিস ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কখন এবং কতক্ষণ যোগাসন করবেন?
শুরুর দিকে প্রতিদিন ১৫–২০ মিনিট হালকা যোগাভ্যাস দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। অভ্যাস হলে সময় বাড়ানো যায়। ডায়বেটিসে শুধু যোগাসনের উপর নির্ভর না করে নিয়মিত হাঁটা বা অন্য উপযুক্ত ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ডায়বেটিস রোগীর জন্য সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি থেকে বেশি মাত্রার শারীরিক কার্যকলাপের পরামর্শ দেওয়া হয়, ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী।
যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
- ইনসুলিন বা সুগার কমানোর ওষুধ নিলে ব্যায়ামের সময় রক্তে শর্করা খুব কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।
- মাথা ঘোরা, বুকব্যথা, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্ট হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যায়াম বন্ধ করুন
- চোখ, কিডনি, স্নায়ু, হৃদ্যন্ত্র বা পায়ের জটিলতা থাকলে সব আসন উপযুক্ত নাও হতে পারে।
- নতুন করে যোগাসন শুরু করার আগে চিকিৎসক এবং অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
- গুরুত্বপূর্ণ কথা
- যোগাসন ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু এটি ওষুধ বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ—সব মিলিয়েই ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণের পথ তৈরি হয়।
