What lies ahead for the 20 rebel TMC MPs?
বিশেষ প্রতিবেদন
সাংসদ ও বিধায়কদের দলবদল রুখতে থাকা ‘দলত্যাগ-বিরোধী আইন’ বা সংবিধানের দশম তফসিল নিয়ে দেশজুড়ে এখন নতুন করে বড় আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের সদস্যপদ খারিজের মামলা, অন্যদিকে শিবসেনা (উদ্ধব)-র ৬ সাংসদের দলবদল সংক্রান্ত মামলা—এই জোড়া বিষয় নিয়ে এখন সুপ্রিম কোর্টের নজর রয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবল এই আইনের কিছু ফাঁকফোকর নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে শীর্ষ আদালতে গেছেন।
আসুন খুব সহজে পুরো বিষয়টি জেনে নেওয়া যাক:
১. তৃণমূলের ২০ বিদ্রোহী সাংসদকে নিয়ে কী বিতর্ক?
- অভিযোগ কী? তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভা নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তাঁদের দলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (NCPI)-র সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন এবং সংসদে নিজেদের আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চাইছেন। তৃণমূলের দাবি, এটি স্পষ্টতই দলত্যাগ-বিরোধী আইনের লঙ্ঘন।
- বিদ্রোহীদের যুক্তি: অন্যদিকে বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি, তাঁদের এই দলবদল আইনসম্মত একটি ‘মার্জার’ বা দল একীভূতকরণের আওতাতেই পড়েছে।
- আদালতের বার্তা: লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এই সাংসদদের নোটিস পাঠালেও প্রক্রিয়া অনেকটাই ধীর গতিতে চলছে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর সুপ্রিম কোর্টে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৩ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, স্পিকারের কাছ থেকে এই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত আশা করছে আদালত। তবে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। বিদ্রোহী সাংসদরা জবাব দেওয়ার জন্য আরও চার সপ্তাহ সময় চেয়েছেন।
- সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার মূল বক্তব্য:
- আদালতের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন: সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান যে, লোকসভার স্পিকার বা বিধানসভার স্পিকার হলেন একটি সাংবিধানিক পদ (Constitutional Authority)। এই ধরনের উচ্চপদস্থ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে আদালতের পক্ষ থেকে কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া উচিত নয়।
- স্পিকারের কার্যপদ্ধতির স্বাধীনতা: তাঁর মতে, স্পিকার বিচারবিভাগীয় বা আক্ষরিক অর্থে সাধারণ প্রশাসনিক পদে থাকেন না। তাই স্পিকারকে তাঁর নিজস্ব সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের জন্য পর্যাপ্ত সময় ও স্বাধীনতা দেওয়া উচিত। আদালত সরাসরি কাজের গতি ঠিক করে দিলে তা ক্ষমতার ভারসাম্যের ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
- স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ার ওপর জোর: তুষার মেহতা বোঝাতে চেয়েছেন যে, দলত্যাগ-বিরোধী বা দশম তফসিলে স্পিকারের কাছে যে সমস্ত আবেদন জমা পড়ে, সেগুলি অত্যন্ত সংবেদনশীল। প্রতিটি পক্ষের বক্তব্য, নথিপত্র এবং আইনি দিকগুলি ভালোভাবে খতিয়ে দেখেই স্পিকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তাই এই প্রক্রিয়ায় একটু সময় লাগা স্বাভাবিক।
২. শিবসেনা (উদ্ধব) শিবির ও কপিল সিবলের বড় প্রশ্ন
- শিবসেনার মামলা: উদ্ধব ঠাকরে শিবিরের সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ান্ত লোকসভা স্পিকারের একটি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গেছেন। স্পিকার শিবসেনার ৬ জন বিদ্রোহী সাংসদের একনাথ শিন্ডে গোষ্ঠীর সঙ্গে ‘মার্জার’ বা একীভূত হওয়াকে বৈধতা দিয়েছিলেন। সাওয়ান্তের প্রশ্ন—মূল রাজনৈতিক দলটাই যদি অন্য দলের সঙ্গে একীভূত না হয়, তবে কেবল কয়েকজন সাংসদ কীভাবে নিজেদের ইচ্ছামতো ‘মার্জার’ দাবি করে আইন থেকে বাঁচতে পারেন?
- কপিল সিবলের আবেদন: এই বিতর্কের মাঝেই প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবল দশম তফসিলের ‘মার্জার’ সংক্রান্ত নিয়মের সাংবিধানিক ব্যাখ্যা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন। তাঁর মূল প্রশ্ন হলো—দলবদল থামানোর জন্য তৈরি আইনটি কি এই ‘মার্জার’-এর ব্যতিক্রমী নিয়মের কারণে দুর্বল হয়ে পড়ছে? আইনটির কঠোর পুনর্বিবেচনা হওয়া দরকার।
দশম তফসিল বা দলত্যাগ-বিরোধী আইন আসলে কী?
১৯৮৫ সালে সংবিধানের ৫২তম সংশোধনের মাধ্যমে এই দশম তফসিল আনা হয়, যাতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সহজে দলবদল করতে না পারেন। নিয়মানুযায়ী, কোনো দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য অন্য কোনো দলের সঙ্গে মিশে গেলে (মার্জার হলে) তা দলবদলের আওতা থেকে ছাড় পায়। ২০০৩ সালের পর থেকে দল ভাঙার পুরোনো নিয়ম তুলে দিয়ে এই দুই-তৃতীয়াংশের নিয়মই কড়াভাবে লাগু করা হয়। এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কোন পরিস্থিতিতে সাংসদদের এই দলবদলকে সত্যি বৈধ ‘মার্জার’ বলা যাবে, আর কোন পরিস্থিতিতে তা কঠোর শাস্তিযোগ্য দলত্যাগ হিসেবে গণ্য হবে? তৃণমূলের ২০ সাংসদ এবং শিবসেনার মামলার রায়ই এই নিয়ে আগামী দিনে বড় বার্তা দিতে চলেছে।
