SRFTI-এ ধুন্ধুমার, বহিরাগতদের প্রবেশ ঘিরে পড়ুয়া-এবিজিপি বচসা ও রণক্ষেত্র পরিস্থিতি

Tension at SRFTI: Students vs. ABVP over entry of outsiders.

নিজস্ব প্রতিবেদন

কলকাতা: রবিবার সকালে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই)-এর চত্বর রণক্ষেত্রের রূপ নিল। অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত (এবিজিপি)-র একটি কর্মশালাকে কেন্দ্র করে আয়োজক ও পড়ুয়াদের মধ্যে চলা বচসা দ্রুত হিংসাত্মক সংঘর্ষে রূপ নেয়। দিনভর চলা এই উত্তেজনার জেরে গোটা এলাকা কার্যত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও মূল কারণ

জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে নির্ধারিত ভাড়া মিটিয়ে এবং কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল অনুমতি নিয়েই এসআরএফটিআই-এর প্রেক্ষাগৃহে একটি সচেতনতামূলক সভা করছিল সঙ্ঘের অনুগামী সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত’ (পশ্চিমবঙ্গ প্রান্ত)। কিন্তু সকাল গড়িয়ে দুপুর হতেই ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ এবং একটি রাজনৈতিক মতাদর্শযুক্ত বেসরকারি সংগঠনকে ক্যাম্পাসের ভেতর সভা করতে দেওয়ার প্রতিবাদে সোচ্চার হন পড়ুয়াদের একাংশ। প্রেক্ষাগৃহের সামনে শুরু হয় তীব্র বিক্ষোভ। পড়ুয়াদের অভিযোগ, অনুমতি না নিয়ে বা প্রোটোকল ভেঙে ক্যাম্পাসের ভেতরে এ ধরনের অনুষ্ঠান করা হচ্ছে এবং এর জেরে প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।

দু’পক্ষের বক্তব্য

  • আয়োজকদের বক্তব্য: এবিজিপি-র রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ রায়ের দাবি, “আমরা সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া মেনে ১৫ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই সভা করছিলাম। আমাদের সংগঠন মূলত ক্রেতা সুরক্ষা এবং গ্রাহকদের অধিকার নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করে। কিন্তু সম্পূর্ণ বিনা প্ররোচনায় আমাদের সভা বানচাল করার চেষ্টা করা হয়। ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি পর্যন্ত ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।”
  • ছাত্রছাত্রীদের বক্তব্য: উল্টো দিকে পড়ুয়াদের পাল্টা অভিযোগ, “এটি একটি কেন্দ্রীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে নিয়মিত ক্লাস হয়। সেখানে একটি বিশেষ সংগঠনের লোকজন এসে সভা করার সময় প্রতিবাদ করায় আমাদের ওপর চড়াও হওয়া হয়। আমাদের উদ্দেশ্যে ‘বাংলাদেশি’, ‘দেশদ্রোহী’ এবং ‘পাকিস্তানি’ বলে কটূক্তি করা হয় এবং কয়েকজন ছাত্রকে বেধড়ক মারধর করা হয়।”

সর্বশেষ পরিস্থিতি

রবিবার সন্ধে পর্যন্তও এসআরএফটিআই চত্বরের পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসের বাইরে ক্রমশ বাড়তে থাকে বহিরাগতদের ভিড়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় দফায় দফায় ইটবৃষ্টি শুরু হয় ক্যাম্পাস চত্বরে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী। আসেন অতিরিক্ত সিপি সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয় যখন ক্ষিপ্ত জনতা গেট ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে এবং ক্যাম্পাসের ভিতর থেকে ছাত্রছাত্রীরা ‘আজাদি’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। গেটের বাইরে জনতা ও পুলিশের মধ্যে তীব্র ধাক্কাধাক্কিও হয়। অন্যদিকে, পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পড়ুয়ারা। তাঁদের অভিযোগ, মারধরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ না করে পুলিশ উল্টে অভিযোগকারীদের নাম-ঠিকানা ডায়েরিভুক্ত করছে, যা ভবিষ্যতে হেনস্থার কারণ হতে পারে। অবিলম্বে এফআইআর গ্রহণের দাবিতে পুলিশের গাড়ি ঘিরেও বিক্ষোভ দেখান পড়ুয়ারা।