EVM ও ভোটার তালিকায় ‘ম্যাচ-ফিক্সিং’? রাহুলের বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় রাজনীতি

Match-fixing’ in EVMs and voter lists—according to Rahul’s allegations?

নিজস্ব প্রতিবেদন

CWC বৈঠকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রাহুল গান্ধীর; কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও SIR ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে

নয়াদিল্লি, ২৯ সেপ্টেম্বর: দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে ফের সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM) এবং ভোটার তালিকা তৈরিতে ‘ম্যাচ-ফিক্সিং’-এর গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (CWC) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন সম্পূর্ণ ‘ফিক্সড’ ও ‘রিগড’ (কারচুপি করা) ছিল। এই ইস্যুতে আন্দোলন কেবল সংসদের চার দেওয়ালেই সীমাবদ্ধ না রেখে রাজপথে নামানোর ডাক দিয়েছেন তিনি।

রাহুলের অভিযোগের দুই মূল স্তম্ভ

কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে, রাহুল গান্ধী নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অনিয়মকে দুটি প্রধান ভাগে ব্যাখ্যা করেছেন— ১. EVM-এর বিশ্বাসযোগ্যতা: ভোটযন্ত্রের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে ধারাবাহিক সন্দেহ। ২. ভোটার তালিকায় কারচুপি: পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকায় রদবদল ও বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া।

রাহুল দাবি করেন, হরিয়ানা, কর্ণাটক এবং মহারাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলি নিয়ে কংগ্রেস প্রথম দিকে যেসব প্রশ্ন তুলেছিল, তা নিয়ে অনেকের সংশয় ছিল। কিন্তু বর্তমানে সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদন এবং সম্পাদকীয় কলামেও এই অনিয়মের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে উঠে আসছে। এর জবাবে রাস্তায় নেমে আন্দোলন এবং সংসদে জোরালো ‘বিরোধ ও প্রতিরোধ’ গড়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

SIR স্থগিত ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবি

বৈঠকে ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়া নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যে দাবিগুলি তোলা হয়েছে:

  • অবিলম্বে SIR প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে হবে।
  • তালিকা থেকে অন্যায্যভাবে বাদ পড়া সমস্ত ভোটারের নাম পুনর্বহাল করতে হবে।
  • মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে অপসারণ করতে হবে।
  • নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এই ধরনের অনিয়মের নৈতিক দায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পদত্যাগ করতে হবে।

কমিশনের অন্দরেই কি ফাটল?

বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর সাম্প্রতিক একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার SIR-সহ নানা সিদ্ধান্ত ও নির্দেশিকা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি (Dissenting Notes) নথিভুক্ত করেছিলেন।

কী সাফাই দিল নির্বাচন কমিশন?

অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও কারচুপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে মুখ খুলেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য:

  • যেকোনো নিরপেক্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্থায় কমিশনারদের মধ্যে স্বাধীন মতামত বা দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকা খুবই স্বাভাবিক এবং এটি স্বাস্থ্যকর আলোচনারই অঙ্গ।
  • কমিশনের যাবতীয় সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আইনসম্মত এবং নির্দিষ্ট বিধিবদ্ধ নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়েছে।

ইভিএম, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং SIR—এই তিন ইস্যুকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতি এখন সরগরম। বিরোধী দল কংগ্রেস যেখানে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আন্দোলনে নামছে, ঠিক তখনই নির্বাচন কমিশন নিজেদের সমস্ত সিদ্ধান্তকে আইনি ও প্রক্রিয়াগতভাবে নির্ভুল দাবি করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।