Priyanka’s concern on Vijayadashami
নয়াদিল্লি: বিজয়াদশমীর পবিত্র লগ্নকে সামনে রেখে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র। বেকারত্ব এবং লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিকে আধুনিক যুগের ‘রাবণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে মঙ্গলবার দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লা ময়দানে এক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের এই আক্রমণকে নস্যাৎ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুশাসন ও আত্মনির্ভর ভারতের রূপরেখাকে সামনে রেখে পালটা সুর চড়িয়েছে শাসকশিবির।
কী বলেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী?
দিল্লির লাল কেল্লা ময়দানে আয়োজিত রামলীলা উৎসবে যোগ দিয়ে ভগবান রামের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, বিজয়াদশমীর দিনটিতে তাঁরা কোনো রাজনৈতিক তরজায় জড়াতে চান না। তবে দেশের মূল বাস্তবতাকে এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, “আজকের দিনে দাঁড়িয়ে দেশের সাধারণ মানুষ এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, যা একপ্রকার রাবণের রূপ। বেকারত্ব এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি বা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি আজ জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।”
সত্য ও মিথ্যার লড়াই চিরকাল রয়েছে উল্লেখ করে কংগ্রেস নেত্রী আরও বলেন, “মিথ্যার বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে আমরা সবসময় সত্যের পক্ষে লড়েছি এবং ভবিষ্যতারও দেশের মানুষের অধিকারের জন্য এই লড়াই চালিয়ে যাব।” এর আগে এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক বার্তায় অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে ন্যায় ও সত্যের বিজয়ের এই দিনে দেশবাসীকে বিজয়াদশমীর শুভেচ্ছা জানান তিনি।
নরেন্দ্র মোদির বার্তা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: পালটা চাপানউতোর
প্রিয়াঙ্কার এই ‘আধুনিক রাবণ’ তত্ত্ব সামনে আসার পরেই রাজনৈতিক পারদ চড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রিয়াঙ্কার এই মন্তব্য সরাসরি কেন্দ্রের অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক বাণ।
তবে এর বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন ও আশাবাদী। মোদি সরকারের মন্ত্রী ও নেতাদের সাফ কথা, বিগত কয়েক বছর ধরে ভারত বিশ্বমঞ্চে অর্থনৈতিকভাবে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দূরীকরণে কেন্দ্র একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে—যেমন স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়া, ডিজিটাল ইন্ডিয়া, উৎপাদন খাতের প্রসারে পিএলআই (PLI) স্কিম এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন। সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর স্বপ্নই এই তথাকথিত আধুনিক সমস্যাগুলোকে নির্মূল করার একমাত্র পথ। শাসকশিবিরের দাবি, বিরোধীরা কেবল রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করছে, অথচ দেশের যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষ উন্নয়নের সুফল পাচ্ছেন।
উৎসবের আবহে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
বিজয়াদশমীর এই শুভ দিনে একদিকে যখন অসত্যের বিনাশ ও ন্যায়ের জয়ের প্রার্থনা চলছে, ঠিক তখনই দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের মতো জ্বলন্ত ইস্যুগুলোকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস বনাম বিজেপি-র এই রাজনৈতিক দ্বৈরথ জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। উৎসবের আবহেও দুই শিবিরের এই কথার লড়াই যে আগামী দিনে আরও তীব্র হবে, তা বলাই বাহুল্য।
