s Israeli Prime Minister Netanyahu about to lose power?
নিজস্ব প্রতিবেদন
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কি তবে সত্যিই ক্ষমতা হারাতে চলেছেন ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু? দ্য টাইমস অব ইসরাইলের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন সেই ইঙ্গিতই জোরালোভাবে দিচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের সঙ্গে দলগুলোর আলোচনার পর নতুন সরকার গঠনের জন্য ৬৭ জন কোনেসেট (পার্লামেন্ট) সদস্যের ঐতিহাসিক সমর্থন পেয়েছেন ‘ইয়েশার’ নেতা গাদি আইসেনকোট। বিপরীতে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন মাত্র ৪৬ জন আইনপ্রণেতা। ২০১৫ সালের পর কোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রার্থীর ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ সমর্থনের রেকর্ড। এই বিশাল ব্যবধান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, নেতানিয়াহু যুগের অবসান এবং ইসরায়েলি রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
বিপাকে নেতানিয়াহুর বিদায়ী জোট গত সপ্তাহের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর বিদায়ী জোট মাত্র ৫৩টি আসন পেলেও, তাদের মূল মিত্র দলগুলোও এখন দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেছে। সাত আসনবিশিষ্ট ‘ইউমড টোরাহ জুডাইজম’ (UTJ) দল নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দিতে সরাসরি অস্বীকার করেছে। ফলে রক্ষণশীল এই জোটের ভেতরে ভাঙন স্পষ্ট। তাছাড়া, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করাকে এখন প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন অনেকেই।
চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধর্মনিরপেক্ষ ‘ইসরায়েল বেইতেনু’ পার্টির প্রধান আভিগডোর লিবারম্যানও নেতানিয়াহুকে হটাতে হারেদি দলগুলোর সঙ্গে পুরোনো বৈরিতা ভুলে নতুন সমঝোতায় রাজি। লিবারম্যানের এই মনোভাব এবং আইসেনকোটের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী পদের রোটেশন চুক্তির সম্ভাবনা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে আরও বেশি অনিশ্চিত করে তুলেছে।
নতুন সমীকরণ ও স্পিকার অপসারণের প্রস্তুতি আগামী ১০ নভেম্বর নতুন কোনেসেট শপথ নেওয়ার পরপরই বর্তমান লিকুদপন্থী স্পিকার আমির ওহানাকে হটিয়ে নতুন স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী দলগুলো। আরব দল ‘রাম’, ‘যৌথ তালিকা’, ‘ইসরায়েল বেইতেনু’ এবং ‘ডেমোক্র্যাটস’ দলগুলো ইতিমধ্যে যৌথভাবে স্পিকার পরিবর্তনের দাবি তুলেছে। সংসদের কার্যসূচির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানো মানে নেতানিয়াহুর শিবিরের জন্য আরেকটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা।
সাবেক শিন বেত প্রধান ও ইয়েশা প্রতিনিধি ইয়োরাম কোহেন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গত নির্বাচনে ভোটারদের পরিবর্তনকামী রায়ের পর দেশকে আরেকটি নতুন নির্বাচনের দিকে ঠেলে দেওয়া বড় ভুল হবে। কোহেন সরাসরি নেতানিয়াহুর দিকে আঙুল তুলে বলেছেন, ইসরায়েলের এই অনৈক্য ও বিভাজনের জন্য নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক নীতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থাহীনতাই দায়ী।
নেতানিয়াহু যুগের সমাপ্তির পালা গাদি আইসেনকোটের নেতৃত্বাধীন এই বিরোধী জোটে আদর্শগত বৈপরীত্য এবং আরব দলগুলোর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে নানা অভ্যন্তরীণ জটিলতা ও মতপার্থক্য রয়েছে ঠিকই, তবে নেতানিয়াহুকে হটিয়ে একটি স্থিতিশীল সরকার গড়ার অভিন্ন লক্ষ্যই তাদের এক সুতোয় বেঁধেছে। ৬৭ জন আইনপ্রণেতার এই অভাবনীয় সমর্থন এবং বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, ইসরায়েলের রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিদায় এখন কেবলই সময়ের অপেক্ষা।
