BSF attacked on Tripura border
নিজস্ব প্রতিবেদন-
ত্রিপুরার সিপাহিজলা জেলার বক্সনগরের আশাবাড়ি এলাকায় তিন বিএসএফ জওয়ানকে ঘিরে ধরে মারধরের অভিযোগ উঠল একদল ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সোমবার সকালবেলার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আক্রান্ত জওয়ানদের উদ্ধার করতে গিয়ে আহত হয়েছেন কয়েকজন সাংবাদিকও। অভিযোগ, হামলাকারীরা জওয়ানদের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং তাঁদের সরকারি গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তে চোরাচালান, নিরাপত্তার ঘাটতি এবং স্থানীয় স্তরে প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে সংঘর্ষের সমস্ত বিবরণ এবং হামলার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত?
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টা নাগাদ আশাবাড়ি সীমান্ত চৌকির (বিওপি) ১৭৪ ও ১৭৫ নম্বর গেটের কাছে এই ঘটনার সূত্রপাত। অভিযোগ, ওই এলাকায় কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি বেআইনি সামগ্রী পাচারের চেষ্টা করছিলেন। সেখানে মোতায়েন বিএসএফের ৪৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা তাঁদের ধাওয়া করেন। সন্দেহভাজনরা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়েন।
এরপর ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে এক ব্যক্তিকে আটক করেন জওয়ানরা। পাচারের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানা গিয়েছে। তবে ওই ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করেন বলে দাবি। এই সময় তাঁর পায়ে আঘাত লাগে এবং রক্তপাত শুরু হয়। প্রথমে তাঁকে বক্সনগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে আশাবাড়ি নিউ মার্কেট এলাকায় নিয়ে আসা হয় বলে স্থানীয় সূত্রের খবর।
অবরোধের পরই হামলার অভিযোগ
এরপর এলাকায় একদল লোক জড়ো হন। স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, বাবু নামে এক ব্যক্তি মোবাইল বার্তার মাধ্যমে লোকজনকে জড়ো করেন। এর জেরে বক্সনগর-রহিমপুর সড়কে অবরোধ শুরু হয়। সকাল ১০টা নাগাদ খবর সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বক্সনগর প্রেস ক্লাবের কয়েকজন সাংবাদিক। তাঁরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। সেই সময় সরকারি গাড়িতে রহিমপুর-কান্তামুড়া সীমান্ত চৌকি থেকে তিন বিএসএফ জওয়ান সেখানে পৌঁছন।
অভিযোগ, গাড়িটি ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই জওয়ানদের ঘিরে ধরে হামলা চালানো হয়। তাঁদের মাটিতে ফেলে মারধর করা হয় এবং মাথায় আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি তাঁদের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা হয় বলে দাবি। হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজন মহিলাও ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের খবর।
অতিরিক্ত বাহিনী পৌঁছতেই পালানোর অভিযোগ
ঘটনার খবর পেয়ে আশাবাড়ি সীমান্ত চৌকি থেকে অতিরিক্ত বিএসএফ জওয়ান ঘটনাস্থলে পৌঁছন। এরপর হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায় বলে দাবি। পরে পুলিশ ও বিএসএফের পদস্থ আধিকারিকরা বক্সনগরে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ শুরু করেন।
ঘটনাস্থলের বিপরীতে একটি বাড়িতে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরায় হামলার ছবি ধরা পড়ে থাকতে পারে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ ও বিএসএফ সেই ফুটেজ সংগ্রহ করেছে বলে সূত্রের দাবি। হামলায় কারা জড়িত ছিলেন এবং কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা নির্ধারণে ওই ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
চোরাচালান চক্র ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
এই হামলার পর বক্সনগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় বলে অভিযোগ ওঠা চোরাচালান চক্র নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। সীমান্তের কিছু অংশে কাঁটাতারের বেড়া না থাকার বিষয়টিও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিএসএফের কয়েকটি সূত্রের দাবি, হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক থাকতে পারেন, যাঁরা আশাবাড়ি এলাকায় থেকে চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে সন্দেহ। তবে এই দাবির স্বাধীন যাচাই হয়নি। ফলে তদন্তের আগে তাঁদের জাতীয়তা বা অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
স্থানীয় পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ
ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিক ও বাসিন্দাদের একাংশ স্থানীয় পুলিশ, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে বেআইনি সামগ্রী পাচারের সঙ্গে যুক্ত কিছু চক্র রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রশ্রয় পেয়ে থাকতে পারে। স্থানীয় শাসকদলের কিছু প্রভাবশালী সমর্থকের বিরুদ্ধে চোরাচালানকারীদের মদত দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এই অভিযোগগুলির পক্ষে এখনও কোনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ সামনে আসেনি।
স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক ও নেতাদের নীরবতা নিয়েও সমালোচনা করেছেন কয়েকজন সমালোচক। তাঁদের প্রশ্ন, চোরাচালান এবং নিরাপত্তারক্ষীদের উপর হামলার মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরেও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের অবস্থান কী?
এদিকে, বিএসএফের কিছু সদস্যের সঙ্গে চোরাচালানকারীদের যোগসাজশ থাকার এবং টাকার বিনিময়ে বেআইনি কাজকর্মে সাহায্য করার অভিযোগও উঠেছে। এই অভিযোগও প্রমাণিত নয়। ফলে কোনও ব্যক্তি বা বাহিনীর বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
