“বাংলায় জোর করে হারানো হয়েছে”, দিল্লির রামলীলা ময়দানে মহাসমাবেশে তোপ মমতার

Mamata Banerjee’s allegations against the central government and the Election Commission

নয়াদিল্লি: দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া (INDIA) ব্লকের মহা সমাবেশে কেন্দ্র সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের মঞ্চ থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের জোরালো দাবি তোলেন তিনি। পাশাপাশি, বাংলায় জোর করে তাদের হারানো হয়েছে বলে তীব্র আক্রমণ শানান তৃণমূল নেত্রী।

ভোট লুটের বিরুদ্ধে কঠোর হুংকার

রামলীলা ময়দানের সমাবেশে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, দেশের গণতন্ত্র, সংবিধান এবং সাধারণ মানুষের অধিকার লুণ্ঠন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলায় পরিকল্পিতভাবে এবং সেন্ট্রাল এজেন্সির অপব্যবহার করে ভোট গণনা পাল্টে দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় ১ কোটির বেশি ভোট জোর করে বের করে বা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বিজেপি এই ভোট চুরি ও হাইজ্যাকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত।

তৃণমূল নেত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, বাংলাকে এই পরিস্থিতির শিকার বা ‘ভিকটিম’ বানানো হয়েছে। তবে তাঁরা সহজে পিছু হঠবেন না এবং গণতন্ত্র ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার এই লড়াই জারি রাখবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভোট চুরির জবাব আমরা রাজনীতি ও গণতন্ত্রের মাধ্যমেই দেব।”

এদিনের সমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের তরুণ প্রজন্ম, ছাত্রসমাজ এবং বিচারব্যবস্থাকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে বাঁচানোর জন্য দলমত নির্বিশেষে সমস্ত জাতি, ধর্ম ও সম্প্রদায়কে এক হয়ে লড়াই করতে হবে।

গুরুদ্বারা, মন্দির থেকে মসজিদ— সব ক্ষেত্রে আক্রমণের অভিযোগ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান ও প্রতিষ্ঠানের ওপর আক্রমণ চালানোর অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, অতীতে কখনো শোনা যায়নি যে মন্দির, গুরুদ্বারা (যেখানে মানুষ জুতো বাইরে খুলে প্রবেশ করে), মসজিদ বা ওয়াকফ সম্পত্তি, ট্রেজারি এবং দেশের মানুষের ইজ্জত ও অধিকার এভাবে লুণ্ঠিত হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ বাহিনীকে দলের বা পার্টির মতো ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বিজেপি ও কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি একযোগে কাজ করছে।

এজেন্সিগুলিকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং পুলিশ প্রশাসনকে পক্ষপাতিত্ব ছেড়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান। তিনি তরুণ প্রজন্ম, ছাত্রসমাজ, রাজনৈতিক দল এবং বিচারব্যবস্থাকে উদ্দেশ্য করে বলেন— কোনো বিশেষ দল বা পাপেটের মতো আচরণ না করে, দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্রকে বাঁচাতে এবং সাধারণ মানুষকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে সকলকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

“লড়াই যারা করে, তারাই জেতে”

বিজেপি বিরোধী বার্তা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন যে, যারা ভয় পায় এবং প্রতিদিন আতঙ্কিত থাকে, তারা লড়াই করতে পারে না। একমাত্র যারা সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করে, তারাই দিনশেষে জয় ছিনিয়ে আনে। আগামী দিনের স্লোগান হিসেবে তিনি “সেভ ইন্ডিয়া, সেভ ডেমোক্রেসি” (Save India, Save Democracy)-র ডাক দেন এবং দলমত নির্বিশেষে সকলকে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিজেপিকে হঠানোর লড়াইয়ে নামার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *