মহাকাশে ‘ভূত’ দেখে তাজ্জব NASA

Ghost image seen by NASA

‘ওই… সময় হয়ে এলো—এই সময়টাই তো…!’ না, শনিবারের বারবেলা নয়। মঙ্গলবারের হ্যালোইন বেলা। একদম ঠিক ধরেছেন। আগামী ৩১ অক্টোবর (31st October 2023), মঙ্গলবার—হ্যালোইন (Halloween)। মূলত পাশ্চাত্যে এই দিনটি পালিত হয় মৃতদের আত্মার স্মরণে—ভূত সেজে এবং প্রায়শই ভৌতিক পরিবেশ তৈরি করে। উদযাপনের পদ্ধতি-প্রকরণ ভিন্ন হলেও ব্যাপারটার গোড়ায় মিল আছে আমাদের #ভূত চতুর্দশীর সঙ্গে। সে অবশ্য অন্য কথা। এখানে এখন যে কথা বলতে চাইছি, তা হল—হাতে গোনা আর ক’দিন পরেই হ্যালোইন। মানে ওই, ‘পৃথিবীর প্রিয় কোণে ফিরে আসতে চাওয়া অশরীরীদের যত্নআত্তির দিন’—ভূত সাজা ও ভৌতিক পরিবেশ রচনার দিন।

#Halloween

ঠিক এইখানেই আপনাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাইছি একটা আশ্চর্য বিষয়ে। হ্যালোইন উপলক্ষ্যে মানুষে ভূত সাজবে কী, তার আগে স্বয়ং বৃহস্পতি ভূত সেজে বসে আছেন! বুঝলেন না? #বৃহস্পতি গ্রহের (Jupiter) কথা বলছি। মহাকাশ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাকারী প্রখ্যাত সংস্থা, নাসা (NASA), তাদের মহাকাশ যান জুনোর দৌলতে তেমনই ছবি হাতে পেয়েছে। ছবিতে দানব গ্রহের ভয়ঙ্কর মুখাবয়ব অবশ্য সকলেরই নজর এড়িয়ে যেত, যদি না হ্যালোইনের প্রাক্কালে আকাশ-অনুরাগী ভ্লাদিমির টেরেসভ (Vladimir Tarasov) বৃহস্পতির সেই বিটকেল ঠোঁট-নাক-চোখ একটু স্পষ্ট করে ধরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতেন। ভাগ্যিস করেছেন!

#NASA

ব্যাপার হল, সে-ই ২০১১ সালের অগস্ট মাসে মার্কিন মহাকাশ যান, জুনোর যাত্রা শুরু। বৃহস্পতির ধারেকাছে ঘেঁষতে অবশ্য বছরের পর বছর কেটে গিয়েছিল তার। তবে বিফল হয়নি। গত ৭ বছর ধরে সৌর পরিবারের বৃহত্তম সদস্যকে ঘিরে চক্কর কাটছে #জুনো (Juno)। আর সেখান থেকে গ্রহটি সম্পর্কে নাসাকে পাঠাচ্ছে চমকপ্রদ সব তথ্য, বিচিত্র সব ছবি! সম্প্রতি তেমনই একটি ছবি এসে পৌঁছয় মার্কিন সংস্থার মহাকাশ বিজ্ঞানীদের কাছে। গত সেপ্টেম্বরের ৭ তারিখে বৃহস্পতির খুব কাছাকাছি কক্ষপথে ৫৪ তম পাক খাওয়ার সময় গ্রহটির অনেকটা উত্তরের জেট এন ৭ (Jet N7) এলাকার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে ফেলে জুনো। নাসার কাছে পৌঁছনোর পর বিজ্ঞানীরা ছবিটি বিশ্লেষণ করে জানাচ্ছেন, বৃহস্পতির ওই অঞ্চলে তখন ছিল দিন ও রাতের মাঝামাঝি অবস্থা। আলো-অন্ধকারের সঙ্গমে (Terminator) চলছিল আকূল-অস্থির মেঘের দাপাদাপি!

#Jupiter

নাসার থেকে এমন একটি অমূল্য আলোকচিত্র হাতে পেয়ে চমকে ওঠেন লোকবিজ্ঞানী (Citizen Scientist) ভ্লাদিমির টেরেসভ। তিনিই খেয়াল করেন, ছবির মধ্যে #ছবি—ভয়নক ভূতুড়ে এক মুখ!

#GhostImage

ব্যস! ফোটোগ্রাফে হাত চালিয়ে বৃহস্পতির ভূত-সাজা সেই মুখের আদল স্পষ্ট করে তুললেন টেরেসভ। আর যায় কোথায়! খোদ নাসাই হতভম্ব।

ফলে প্রাক-হ্যালোইন আবহে অমন ছবি এখন চোখে চোখে ঘুরছে। ঘোরারই কথা। চোখ ছানাবড়া হচ্ছে। হওয়ারই কথা। চক্ষু চড়কগাছ হয়ে কেউ-কেউ আঁতকে উঠে চিৎকার জুড়ে দিচ্ছেন—ভূউউউউউউত!

IMAGE CREDIT

Image Data: NASA/JPL-Caltech/SwRI/MSSS

Image Processing by Vladimir Tarasov

© CC BY