শ্রমিকরা ক্লান্ত কিন্তু আত্মবিশ্বাসী

এএনআই সূত্রে সুড়ঙ্গের অন্দরের ছবি!

অবশেষে দেখা মিলল! উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের দেখা গেল আর কী! কর্মরত উদ্ধারকারী দল এতদিন জানাচ্ছিল, বন্ধমুখ সুড়ঙ্গের ভিতর ৪১ জন শ্রমিক অক্ষত আছেন। কিন্তু এতগুলো দিন পেরিয়ে যাওয়ায়, তৈরি হচ্ছিল সংশয়। এবার ছবি সামনে চলে আসায় কিছুটা নিশ্চিন্ত হওয়া গেল।

সোমবারই উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে ডিআরডিওর রোবটিক্স মেশিন টিম। ফলে আশা করা যাচ্ছিল, সুড়ঙ্গের অন্দরে শ্রমিকদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য বেরিয়ে আসবে। আজ, মঙ্গলবার, পরোক্ষ কোনও তথ্য নয়— একেবারে ভিডিও প্রকাশ পেল শ্রমিকদের। এক্স (X, পূর্বনাম Twitter) হ্যান্ডলে এই নিয়ে সেই ভিডিও সহ একাধিক ছবি প্রকাশ করেছে সংবাদ সংস্থা এএনআই। সরাসরি দেখুন এএনআই-এর পোস্ট ও বহু প্রত্যাশিত ভিডিওটি।

কিন্তু কী করে সম্ভব হল এই অসাধ্যসাধন? উদ্ধারকারী দল যখন এখনও শ্রমিকদের কাছে পৌঁছতে পারেনি, তখন তাঁদের ভিডিও তোলা হল কী উপায়ে? কে তুলল ভিডিও? প্রশ্নগুলো স্বাভাবিক। এই ভিডিওর উপরে এএনআইয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এন্ডোস্কোপিক ফ্লেক্সি ক্যামেরার মাধ্যমে তৈরি হয়েছে ভিডিওটি।

এন্ডোস্কোপি কথাটার সঙ্গে আমরা সকলেই বোধহয় অল্পবিস্তার পরিচিত। চিকিৎসা বিজ্ঞানের সঙ্গে জড়িত এই ব্যবস্থায় শরীরে লম্বা নল ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। সেই নলের ভিতর দিয়ে আবার সূক্ষ্ম ক্যামেরা ও যন্ত্রপাতিও প্রবেশ করে। তাতে বাইরে থেকেই শরীরের ভিতরকার ছবি কম্পিউটার স্ক্রিনে ভেসে ওঠে। এমনকি সেই অনুযায়ী অস্ত্রোপচারও হয়। উত্তরকাশীর বিধ্বস্ত সুড়ঙ্গের মধ্যেও ঠিক সেই প্রযুক্তিটাই কাজে লাগানো হচ্ছে।

এক্স হ্যান্ডলে পরবর্তী একটি পোস্টে এএনআই এন্ডোস্কোপিক ফ্লেক্সি ক্যামেরার ছবি দিয়েছে। ধারণা পরিষ্কার হবে সেই ভিডিও দেখলে।

প্রথম ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, জড়ো হওয়া ‘বন্দি’ শ্রমিকদের শরীরে সুড়ঙ্গে কাজ করার মতো কিছু পরিধান। সেটাই স্বাভাবিক। কেননা, নির্মাণ কাজ চলার সময়ই বিশালাকার পাথরের চাঙড় ভেঙে সুড়ঙ্গের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। ওই জায়গায়, একটু দূরে, তীব্র বৈদ্যুতিক আলো জ্বলছে। শ্রমিকরা অক্ষতই আছেন, এটা বড় নিশ্চিন্ততার খবর। তবে তাঁদের শরীরী ভাষা ক্লান্ত। যদিও আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেননি কেউ। নিজেদের মধ্যে কথা বলার ভঙ্গিমা লক্ষ করা যাচ্ছে। পাশাপাশি, তাঁরা বাইরের সঙ্গেও কথোপকথনের জন্য যান্ত্রিক যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছেন, সম্ভবত।

এএনআই সূত্রে খবর, পানীয়-খাবারদাবার থেকে শুরু করে যোগাযোগের যাবতীয় যন্ত্রপাতি—বন্ধমুখ সুড়ঙ্গের ভিতর এসবই পাঠানো হচ্ছে ৯০০ এমএম পাইপ দিয়ে। শ্রমিকদের উদ্ধার করতে হলেও ওই ধরনের পাইপই ভরসা। তাই আরও ৯০০ এমএম পাইপ পৌঁছচ্ছে বিপর্যস্ত সিলকারা সুড়ঙ্গের কাছে, জানাচ্ছে এএনআই।