হিংসার দাবানলে জ্বলছে নেপাল এই আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশের হাসিনা বিরোধী আন্দোলনের হুবহু মিল রয়েছে

Nepal Crisis 2025

মনিরুল হোসেন :

 প্রতিবাদের আগুনে জ্বলছে নেপাল। নেপালের যুব সমাজের বড় অংশ বাংলাদেশের মতো পথে নেমেছে।প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে সেনাবাহিনী। যেন বাংলাদেশ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রদের জুলাই আন্দোলনের কপিপেষ্ট। বাংলাদেশের মতোই ব্যর্থ সেনা। পদত্যাগ প্রধানমন্ত্রী থেকে রাষ্ট্রপতির। সব মিলিয়ে হিসার দাবানলে জ্বলছে নেপাল।

 দুই দিনের সহিংস দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে ২১ জন নিহত এবং প্রায় ১০০ জন আহত হওয়ার পর মঙ্গলবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেছেন। তিনি রাষ্ট্রপতি রাম চন্দ্র পাউডেলকে পদত্যাগ পত্রে লিখেছেন, “দেশের প্রতিকূল পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, সমস্যার সমাধান সহজতর করার জন্য এবং সংবিধান অনুসারে রাজনৈতিকভাবে সমাধানে সহায়তা করার জন্য আমি পদত্যাগ করেছি।”

“প্রধানমন্ত্রী ওলি পদত্যাগ করার পর তার দৃশ্যে দেখা গেছে মিঃ ওলি একটি সামরিক হেলিকপ্টারে তার অফিস থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। এর কিছুক্ষণ পরেই নেপাল সরকারের মুখ্য সচিব বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার জন্য আন্তরিক আবেদন করেন। সকল নাগরিককে এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আরও জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি বন্ধ করতে সংযমের আর্জি জানিয়েছেন।” প্রধানমন্ত্রী ওলির পদত্যাগের পরে রাষ্ট্রপতি পাউডেলও পদত্যাগ করেন।

নেপালে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিনে জনরোষ আছড়ে পড়ে নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা এবং তার স্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবার উপর। বিক্ষোভকারীরা তাদের ব্যাপক মারধর করেছে।

বিক্ষোভকারীরা কাঠমান্ডুর বুদানিলকান্তে দেউবার বাসভবনে ভাঙচুর চালায়। ছবিতে দেখা যাচ্ছে হামলার পর প্রাক্তন মন্ত্রীর রক্তাক্ত মুখ। দেউবা এবং আরজুকে উদ্ধার করতে কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তাদের বাসভবন ভাঙচূর করা হয়।

বিক্ষুব্ধ যুবকরা রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রিপরিষদ মন্ত্রী এবং সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এমনকি দলীয় অফিস এবং থানাও তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি।