Malda SIR Movement Controversy
নিজস্ব প্রতিবেদন :
কালিয়াচকের গণবিক্ষোভ ও সাংবাদিকের কণ্ঠরোধ
মালদার কালিয়াচকে ভোটার তালিকায় এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অসংগতির প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন আজ এক জটিল মোড় নিয়েছে। একদিকে নাগরিক অধিকার রক্ষার লড়াই, অন্যদিকে বিচার ব্যবস্থার ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত আক্রমণ—এই দুইয়ের মাঝে পিষ্ট হচ্ছে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা।
গণআন্দোলন ও আইনজীবী মোফাক্করুল ইসলামের ভূমিকা
জাতীয় সড়ক অবরোধ করে চলা এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আইনজীবী মোফাক্করুল ইসলামের বক্তব্য ছিল অত্যন্ত যুক্তিগ্রাহ্য ও গণতান্ত্রিক। তিনি বারবার জনতাকে আইন ও শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে আন্দোলন করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। অথচ, সেই অবস্থানস্থল থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে সাতজন বিচারপতির ওপর হওয়া ন্যক্কারজনক আক্রমণের ঘটনায় তাঁকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তের আগেই এই ধরনের গ্রেফতারি কি প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করার চেষ্টা, নাকি আন্দোলনকে স্তব্ধ করার কৌশল?
একরামূল বাগানি: সাংবাদিকতা কি তবে অপরাধ?
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো ডিজিটাল মাধ্যম ‘ইনসাফ বাংলা’-র জনপ্রিয় সাংবাদিক একরামূল বাগানি-র গ্রেফতারি। মোফাক্করুল ইসলামকে নিয়ে চর্চা হলেও, একরামূলের বিষয়টি কার্যত আড়ালে পড়ে যাচ্ছে।
কেন একরামূলের গ্রেফতারি অযৌক্তিক?
- পেশাগত দায়িত্ব: একরামূল সেদিন কোনো উস্কানিমূলক বক্তব্য দেননি; বরং একজন সংবাদকর্মী হিসেবে ঘটনাস্থলের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেছিলেন।
- ডিজিটাল মাধ্যম ও বাস্তবতা: আজকের যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দ্রুত সংবাদ পৌঁছে দেওয়া একজন সাংবাদিকের প্রধান কাজ। তিনি কেবল সেই নাগরিক দায়িত্ব পালন করছিলেন।
- সাংবাদিকতার স্বাধীনতা: যদি সরাসরি সংবাদ সম্প্রচার করাই অপরাধ হয়, তবে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলে পরিচিত সংবাদমাধ্যমের অস্তিত্বই বিপন্ন।
সুপ্রিম কোর্টের উদ্বেগ এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এনআইএ (NIA) তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পাক—তা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু তদন্ত শুরুর আগেই একজন জনপ্রিয় সাংবাদিককে শ্রীঘরে পাঠানো কি কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ?প্রশাসনের উচিত ঘটনার গভীরে গিয়ে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করা, কোনোভাবেই যেন নিরপরাধ সংবাদকর্মী বা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কণ্ঠরোধ না হয়।
