প্রশ্নপত্র ফাঁসে বাতিল NEET-UG 2026, সিবিআই তদন্তের নির্দেশ কেন্দ্রের গ্রেফতার ১৫

NEET2026 Question Leak

নিজস্ব প্রতিবেদন:

ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET-UG 2026 ঘিরে বড়সড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৩ মে ২০২৬ অনুষ্ঠিত হওয়া এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসতেই শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন দেশের ২০ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবার।

সূত্রের খবর, রাজস্থানের শিকর জেলায় পরীক্ষার আগে কিছু পড়ুয়ার হাতে যে ‘প্র্যাকটিস প্রশ্নপত্র’ পৌঁছেছিল, তার সঙ্গে আসল NEET প্রশ্নপত্রের একটি বড় অংশ হুবহু মিলে যায়। অভিযোগ, ৭২০ নম্বরের পরীক্ষায় প্রায় ৬০০ নম্বরের প্রশ্ন আগেই ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। এই তথ্য সামনে আসতেই দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই বড় পদক্ষেপ করেছে বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ। রাজস্থান পুলিশ প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। পাশাপাশি রাজস্থান পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহারাষ্ট্রের নাসিক সিটি ক্রাইম ব্রাঞ্চ শুভম খৈরনার নামে এক যুবককে ইন্দিরা নগর এলাকা থেকে আটক করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রশ্নপত্র পাচার চক্রের সঙ্গে তার যোগ থাকতে পারে।

এদিকে এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি সমাজমাধ্যমে কেন্দ্র সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর তথাকথিত অমৃত কাল দেশের জন্য বিষ কালে পরিণত হয়েছে।’ বিরোধীদের অভিযোগ, বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও কেন্দ্র সরকার ও NTA কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালেও NEET পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত বিষয়টি গড়ায়। তবে এ বার ফের একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় পরীক্ষার মাত্র ন’দিনের মধ্যেই তা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয় NTA।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভারতের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। ডিজিটাল এনক্রিপশন, প্রশ্নপত্র পরিবহণ ও পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

এনটিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাব্য দিনক্ষণ খুব শীঘ্রই ঘোষণা করা হতে পারে। তবে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে। বহু পড়ুয়া ও অভিভাবকের অভিযোগ, বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমের পর এই ধরনের ঘটনার কারণে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।

এখন গোটা দেশের নজর সিবিআই তদন্তের দিকে। তদন্তে আর কারা জড়িত, কীভাবে প্রশ্নপত্র বাইরে এল এবং এর পিছনে বড় কোনও চক্র কাজ করছে কি না, তা নিয়েই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।