Tiljola BulldozerAction
তিলজলার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নজিরবিহীন দ্রুততায় অভিযানে নামল প্রশাসন। আগুন লাগার মাত্র ৩০ ঘণ্টার মধ্যেই বুলডোজার চালিয়ে ভাঙা শুরু হল ওই বহুতলের অংশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মুখে কলকাতা পুরসভার কর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে এলাকায় পৌঁছন। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে মোতায়েন করা হয় বিপুল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বহুতলের দোতলায় অবৈধভাবে চলছিল চামড়াজাত পণ্য তৈরির একটি কারখানা। সেখানেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এখনও পর্যন্ত দুই জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক জন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলের একাধিক ইঞ্জিনকে দীর্ঘক্ষণ লড়াই করতে হয়। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আতঙ্ক ছড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে।
ঘটনার পরই তদন্তে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটির প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে আসে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বহুতলটি বেআইনিভাবে নির্মিত এবং সেখানে অগ্নি নির্বাপণের ন্যূনতম ব্যবস্থাও ছিল না। জরুরি পরিস্থিতিতে বেরিয়ে আসার পর্যাপ্ত পথ, ফায়ার সেফটি সিস্টেম বা অনুমোদিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা— কিছুই কার্যকর ছিল না বলে অভিযোগ।
এই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, “আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে আমাদের সরকারের জ়িরো টলারেন্স নীতি থাকবে। যাঁদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন, তাঁরা এখনই সতর্ক হয়ে যান।”
মুখ্যমন্ত্রীর ওই বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হয়ে যায় ভাঙার কাজ। প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, শুধুমাত্র এই বহুতল নয়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ও অগ্নি নিরাপত্তাহীন ভবনের তালিকাও তৈরি করা হচ্ছে। আগামী দিনে আরও কড়া অভিযান চালানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
