Ongoing tit-for-tat attacks between the US and Iran.
বিশেষ প্রতিবেদন
মার্কিন হামলায় ইরানে নিহত ১৪, আহত ৭৮। পাল্টা কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা ইরানের।
নিজস্ব প্রতিবেদন | ৯ জুলাই, ২০২৬: কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’-কে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত এবার চরম আকার ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই, ২০২৬) টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে ভয়াবহ হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড়সড় আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানে মার্কিন বাহিনীর ব্যাপক হামলা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর সাম্প্রতিক হামলার জবাবে এবং ওই জলপথে “নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা” নিশ্চিত করতেই ইরানের ওপর এই আঘাত হানা হয়েছে।
- হামলার লক্ষ্যবস্তু: মার্কিন সামরিক বাহিনী রাতারাতি ইরানের উপকূলরেখা বরাবর প্রায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
- ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহত: ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ (IRNA)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দু’দিনের মার্কিন হামলায় বুশেহর, চাবাহার, বন্দর আব্বাস এবং সিরিক-সহ হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন উপকূলীয় শহরগুলোতে ব্যাপক বিস্ফোরণ ঘটে। এ পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন।
বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে হামলার অভিযোগ ইরানের বুশেহর প্রদেশের এক স্থানীয় আধিকারিক এহসান জাহানিয়ান অভিযোগ করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। তাঁর মতে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড তাদের অভিযান শেষের ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টা পর, আনুমানিক দুপুর নাগাদ এই হামলা হয়। যদিও মার্কিন আধিকারিকরা তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবির সত্যতা স্বীকার করেননি।
ইরানের পাল্টা প্রত্যাঘাত মার্কিন হামলার পরপরই ইরান দ্রুত পাল্টা জবাব দেয়।
- মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা: ইরানের ‘রেভোলিউশনারি গার্ডস’ দাবি করেছে যে, তারা কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির “মূল পরিকাঠামো এবং সুবিধাগুলোর” ওপর সফল হামলা চালিয়েছে।
- লক্ষ্যবস্তু: কুয়েতের আরিফজান ও আলী আল সালেম এবং বাহরাইনের জুফায়ের ও শেখ ঈসা ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়।
- অ্যাটাক ড্রোন ব্যবহার: ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলার অংশ হিসেবে ইরানি সেনাবাহিনী কুয়েত, বাহরাইন এবং কাতারের একাধিক স্থানে ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ (আত্মঘাতী ড্রোন) দিয়ে আঘাত হেনেছে।
জর্ডানে সতর্কতা ও মিসাইল সাইরেন ইরানের এই পাল্টা হামলার আঁচ গিয়ে পড়েছে জর্ডানেও। মার্কিন বিমান হামলার জবাবে ইরান বৃহত্তর পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যখন প্রত্যাঘাত শুরু করে, তখন জর্ডানের রাজধানী আম্মান-সহ আশেপাশের একাধিক এলাকায় মিসাইল সাইরেন বেজে ওঠে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, জর্ডানের আকাশপথে ইরানি মিসাইল প্রতিহত করা হয়েছে, তবে এই বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
হুমকি ও পাল্টা হুমকি দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে। এর মধ্যেই শুরু হয়েছে চরম বাগযুদ্ধ।
- ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালীতে আর কোনো জাহাজে আক্রমণ করে, তবে আমেরিকার পরবর্তী হামলাগুলো “আরও অনেক বেশি ভয়ংকর” হবে।
- ইরানের অবস্থান: অন্যদিকে, ইরানের শীর্ষ আলোচক স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তাদের ওপর হওয়া যেকোনো হামলার চূড়ান্ত প্রতিশোধ নেবে তেহরান।
প্রেক্ষাপট: সুপ্রিম লিডারের শেষকৃত্য এই চূড়ান্ত ডামাডোলের মধ্যেই আজ নিহত সুপ্রিম লিডার আলি খামেনেইয়ের ম্যারাথন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানের সমাপ্তি দিন। গোটা বিশ্বের নজর এখন সেদিকেই, বিশেষ করে তাঁর ছেলে এবং সম্ভাব্য উত্তরসূরি মোজতবা খামেনেই আজ জনসমক্ষে আসেন কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছে আন্তর্জাতিক মহলে।
(প্রতিবেদনের তথ্যসূত্র: IRNA, US Central Command, Iranian Army, Revolutionary Guards)
