তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট জট খুলল আংশিক! দৈনন্দিন খরচের জন্য স্পেশাল অফিসার নিয়োগ কলকাতা হাই কোর্টের

TMC Frozen Bank Account

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের ফ্রিজ় হওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত মামলায় তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, দলের তিনটি ফ্রিজ় হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং আইনি লড়াইয়ের খরচের জন্য টাকা তোলা যাবে। তবে যথেচ্ছভাবে নয়, পুরো প্রক্রিয়াটি চলবে আদালতের নিযুক্ত স্পেশাল অফিসারের কড়া নজরদারিতে। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বভার দেওয়া হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে।

কীভাবে মিলবে টাকা? আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দলের প্রকৃত ব্যবহারকারীরা চেকের মাধ্যমে টাকা তুলতে পারবেন। এর জন্য একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তিনটি অ্যাকাউন্টের জন্য দলের দু’জন ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি (সিগনেটারি অথরিটি) প্রথমে চেকে সই করবেন। এরপর সেই চেক যাবে স্পেশাল অফিসারের কাছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদার তাতে ‘কাউন্টার সই’ করার পরেই সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক ওই চেক এনক্যাশ করবে বা টাকা দেবে।

খরচের উপর কড়া শর্ত বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁর নির্দেশে সাফ জানিয়েছেন, একটি রাজনৈতিক দল চালাতে গেলে প্রতিদিনের যে সাধারণ খরচ হয়, আপাতত কেবল সেই টাকাটাই তোলা যাবে। পাশাপাশি মেটানো যাবে আইনি খরচও। স্পেশাল অফিসারের অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও খাতে বা বড় অঙ্কের কোনও অর্থ তোলা যাবে না। আদালত জানিয়েছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারই স্পেশাল অফিসার হিসেবে এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালনা করবেন।

পুলিশের তদন্ত নিয়ে আদালতের অসন্তোষ এ দিনের শুনানিতে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করার স্বপক্ষে পুলিশের পেশ করা তদন্তের নথি (মেটিরিয়াল) নিয়ে রীতিমতো অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি ভট্টাচার্য। আদালতের পর্যবেক্ষণ, পুলিশের পেশ করা নথিতে আদালত একেবারেই সন্তুষ্ট নয়। শুনানিতে উঠে আসে যে, ৩ জন বিধায়কের বয়ান নেওয়া হয়েছে এবং ৭ জন বিধায়ক ৭টি অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, যে বিধায়করা অভিযোগ করেছেন, তাঁরাই গত ৪ মে-র আগে ওই বিতর্কিত অ্যাকাউন্টগুলো থেকেই ভোটের খরচের বাবদ টাকা নিয়েছিলেন।

‘আসল তৃণমূল’ কে? ফয়সালা করবে কমিশন তৃণমূলের কোন গোষ্ঠী ‘আসল তৃণমূল’, সেই বিচার বর্তমানে হাই কোর্ট করছে না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিচারপতি। কারণ, বিষয়টি বর্তমানে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিচারাধীন। তবে আদালত জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশন যদি বিবদমান দুই গোষ্ঠীর মধ্যে কোনও একটিকে চূড়ান্ত স্বীকৃতি দেয়, তবে এই অন্তর্বর্তী নির্দেশের পরিবর্তন বা পরিমার্জন চেয়ে ফের আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যেতে পারে।

আগামী ২১ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। ততদিন পর্যন্ত হাই কোর্টের নজরদারিতেই দলের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কাজকর্ম পরিচালিত হবে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘাসফুল শিবিরের জন্য আংশিক স্বস্তির বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।