Trinamool’s bank account faces legal complications.
নিজস্ব প্রতিবেদন
কলকাতা-
কলকাতা হাইকোর্টে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়া এবং তার মালিকানা দাবি নিয়ে সোমবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চে এক টানটান সওয়াল-জবাব পর্ব চলে। মূল বিতর্কের বিষয়বস্তু নিচে আইনি সংলাপের স্টাইলে তুলে ধরা হলো:
সওয়াল-জবাব: কে আসল তৃণমূল, কার হাতে থাকবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট?
বিচারপতি কৃষ্ণা রাও: নিম্ন আদালতের বিচারকের কি ক্ষমতা আছে কোনো একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের একচ্ছত্র অধিকার দেওয়ার? ইডি (ED) কি এই বিষয়ে পুলিশের কাছ থেকে কোনো রিপোর্ট নিয়েছিল?
ধীরজ ত্রিবেদী (ইডি-র আইনজীবী): মাই লর্ড, শিডিউলড অফেন্স বা তপশিলি অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশের কাছ থেকে আলাদা করে এমন রিপোর্ট নেওয়ার কোনো আইনি প্রয়োজনীয়তা নেই।
এস ভি রাজু (ইডি-র আইনজীবী): এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা দরকার। গতকালই নিম্ন আদালত এই অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি আজ হাইকোর্টের কাছে সম্পূর্ণ গোপন করা হয়েছে!
বিচারপতি কৃষ্ণা রাও: নিম্ন আদালতের ওই মামলায় কি এদের (কালীঘাটপন্থী তৃণমূলকে) পক্ষ বা ‘পার্টি’ করা হয়েছিল?
অভিষেক মনু সিংভি (কালীঘাট-তৃণমূলের আইনজীবী): তথ্য গোপন করার প্রশ্ন উঠছে কেন, যেখানে বিষয়টি ইতিমধ্যেই অর্ডার বা নির্দেশিকায় রয়েছে? এই মামলায় কাউকে পক্ষ করা হয়নি। ইতিপূর্বে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশ ছিল যে অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু তারপরেও ৭ জুলাই ইডি গায়ের জোরে অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করে দেয়!
মনু সিংভি (বিজেপি সরকারকে নিশানা করে): দেশে যদি ‘ট্রিপল ইঞ্জিন’ সরকার হতো, তবে কি তিনটে কেন্দ্রীয় এজেন্সি আসত? শুধু অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে দেরি করাতেই এই মামলা সাজানো হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা মানে সরাসরি গণতন্ত্রের ওপর হামলা চালানো। নির্বাচনের সময় সমস্ত লেনদেন চেকের মাধ্যমে বৈধভাবেই হয়েছে। যারা আজ নিজেদের একমাত্র অ্যাকাউন্ট হোল্ডার বলে দাবি করছে, তারা ২৫ লক্ষ টাকা নিয়েও আগে কোনো দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ তোলেনি। আগে নির্বাচন কমিশন ঋতব্রতদের দাবিকে স্বীকৃতি দিক, তারপর দেখা যাবে!
জিষ্ণু চৌধুরী (ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী): মাই লর্ড, আমরা নিম্ন আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ পেয়েছি। আমরাই আসল তৃণমূল এবং আমরাই এই দলের প্রতিনিধিত্ব করব, অন্য কেউ নয়। তাই অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অধিকারও একমাত্র আমাদেরই।
বিচারপতি কৃষ্ণা রাও: (ঋতব্রতর আইনজীবীর উদ্দেশ্যে) যথাযথ আবেদন বা ‘প্রপার অ্যাপ্লিকেশন’ নিয়ে আসুন। এইভাবে আপনাদের মৌখিক দাবি এখন শুনতে চাই না।
আদালতের অবস্থান
তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্ট প্রথমে পুলিশ এবং পরে ইডি ফ্রিজ করায় চরম সংকটে পড়েছে কালীঘাট শিবির। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশে প্রাক্তন বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে বিশেষ অফিসার নিয়োগ করে অ্যাকাউন্ট সচল করার কিছুটা স্বস্তি মিললেও, নিম্ন আদালতের নতুন নিষেধাজ্ঞা ও ইডির পদক্ষেপে জটিলতা বেড়েছে。 এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনে ‘আসল তৃণমূল’ প্রমাণের লড়াই চলার মাঝেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী অ্যাকাউন্টের ওপর একক অধিকার দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। তবে সোমবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ তাদের যথাযথ আইনি আবেদন ছাড়া এই মৌখিক দাবিতে সাড়া দেয়নি।
