হাসিনা দেশে ফিরলেই কার্যকর হবে ফাঁসির সাজা: হুঁশিয়ারি বাংলাদেশ সরকারের

Death sentence awaits Hasina upon her return to the country.

ঢাকা: বাংলাদেশে ফিরলে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনোভাবেই রেহাই পাবেন না এবং আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুযায়ী তাঁকে ফাঁসির মুখোমুখি হতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ নেত্রীর বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে এই কড়া অবস্থান ব্যক্ত করা হয়।

এর আগে সোমবার বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, হাসিনা দেশের মাটিতে পা রাখা মাত্রই তাঁকে সরাসরি কারাগারে পাঠানো হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই ঢাকায় প্রত্যাবর্তনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এক অভূতপূর্ব ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। তারপর থেকে গত বছরাধিককাল ধরে তিনি ভারতের নিরাপদ আশ্রয়েই রয়েছেন।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠিত হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নয়া এই প্রশাসন হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত সরকারের কাছে একাধিকবার কূটনৈতিক স্তরে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই দ্বিপাক্ষিক টানাপোড়েনের মধ্যে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল নয়াদিল্লির অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছেন, “এই বিষয়ে ভারতের নীতিগত অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। যেকোনো প্রত্যর্পণের বিষয়ই আসলে একটি আইনি প্রক্রিয়া এবং সেভাবেই বিষয়টিকে বিবেচনা করা হবে।”

এদিকে মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, সরকার শেখ হাসিনার এই দেশে ফেরার ঘোষণাকে স্বাগত জানাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, “হাসিনা যে অপরাধ করেছেন, তার জন্য তাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে এবং দেশের মানুষও সেটাই দেখতে চায়। এক্ষেত্রে তাঁর এই ফাঁসির সাজা কার্যকর করা হবে।” বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহেদ উর রহমান শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেন, “হাসিনাকে বিশ্বের সবচেয়ে ভালো আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে আসতে বলুন।”