A powerful explosion struck the Kabal Police Station in Pakistan
পাকিস্তান: উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার সোয়াট উপত্যకায় এক ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় রক্তগঙ্গা বয়ে গেল। পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় প্রথম সারির দৈনিক ‘দ্য ডন’ (Dawn)-এর প্রতিবেদন অনুসারে, সোয়াটের কাবাল পুলিশ স্টেশনের প্রবেশমুখে ঘটানো এই শক্তিশালী বিস্ফোরণে অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ২০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।
‘দ্য ডন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ঘটনার বিবরণ
‘দ্য ডন’-এর প্রতিবেদন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোয়াট পুলিশের মুখপাত্র নাসির ইকবাল কারিমি নিশ্চিত করেছেন যে এই হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১৪-তে পৌঁছেছে। এর আগে সোয়াটের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (ডিআইজি) ফিদা হোসেন চার পুলিশ কর্মকর্তাসহ সাতজনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
সোয়াট জেলার জেলা পুলিশ সুপার (ডিপিও) উমর খানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কাবাল থানার প্রবেশপথে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে থামিয়ে তল্লাশি চালানোর চেষ্টা করেন অন-ডিউটি পুলিশ সদস্যরা। ঠিক সেই মুহূর্তেই ওই আত্মঘাতী বোমারু তার শরীরে থাকা শক্তিশালী বিস্ফোরকের বিস্ফোরণ ঘটায়।
প্রতিবাদ সভার শেষ মুহূর্তেই ঘটানো হলো হামলা
বিস্ফোরণের সময় থানার ঠিক পাশেই কাবাল চক এলাকায় শত শত স্থানীয় মানুষ একটি বিশাল জনসভায় উপস্থিত ছিলেন। সোয়াট উপত্যকায় সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়া সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। ‘দ্য ডন’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনের শেষ বক্তা যখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখছিলেন, ঠিক তখনই থানা চত্বরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণটি ঘটে। এতে উপস্থিত জনতার মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়ায় এবং হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।
বিস্ফোরণের পরপরই পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ সাইদু শরীফ টিচিং হাসপাতালে ভর্তি করায়। এলাকাটি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।
“আমরা আর নতুন করে বিধবা বা এতিম দেখতে চাই না”
হামলার ঠিক কিছুক্ষণ আগে প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত বক্তারা সোয়াটে শান্তির পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রাজ্যজুড়ে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন। বক্তারা বলেন, “আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো সোয়াট উপত্যকায় যেকোনো মূল্যে শান্তি ফিরিয়ে আনা।”
প্রশাসনের ব্যর্থতার দিকে আঙুল তুলে এক বক্তা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমাদের সন্তানরা শিক্ষা চায়, আমাদের পরিবার একটু শান্তিতে বাঁচতে চায়। আমরা বহু বছর ধরে রক্তপাত দেখেছি। আমাদের মা-বোনেরা অসীম কষ্ট সহ্য করেছেন, আমরা আর নতুন করে কোনো বিধবা বা এতিম দেখতে চাই না।”
প্রদেশে লাফিয়ে বাড়ছে সন্ত্রাসী হিংসা
এই হামলাটি খাইবার পাখতুনখোয়ায় বাড়তে থাকা সন্ত্রাসী কার্যকলাপেরই একটি অংশ। এর কিছু সময় আগেই পেশোয়ারের একটি টোল প্লাজার কাছে আইইডি (IED) বিস্ফোরণে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (PICSS)-এর নিরাপত্তা প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে জানা গেছে, খাইবার পাখতুনখোয়ায় সন্ত্রাসী হিংসা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত জুন মাসে যেখানে ৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল, জুলাই মাসে সেই সংখ্যা ১০৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৫৪ জনে গিয়ে পৌঁছেছে।
