মধ্যপ্রদেশের দ্বিতীয় ধাক্কা: দাতিয়া উপনির্বাচনে বিজেপিকে হারিয়ে আসন ধরে রাখল কংগ্রেস

Congress candidate wins Datia Assembly by-election in Madhya Pradesh.

বিশেষ প্রতিবেদন

ভোপাল: রাজ্যের বিজেপি সরকারের অস্তিত্ব সঙ্কটে না ফেললেও, মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল ক্ষমতাসীন দলটির নতুন রাজ্য নেতৃত্বের জন্য বড় এক ধাক্কা হয়ে দাঁড়াল। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে বিজেপি প্রার্থী আশুতোষ তিওয়ারিকে ৬,০১৬ ভোটে পরাজিত করে আসনটি নিজেদের দখলেই রাখল কংগ্রেস। কংগ্রেস প্রার্থী কুঁওয়ার ঘনশ্যাম সিং মোট ৬৬,৭৫৭টি ভোট পান, যেখানে বিজেপির আশুতোষ তিওয়ারি পান ৬০,৭৪১টি ভোট। ২২,৫২৭টি ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করেছেন আজাদ সমাজ পার্টির প্রার্থী দামোদর যাদব।

বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ক্ষোভ

এই উপনির্বাচনে বিজেপির পরাজয়ের নেপথ্যে দলটির অভ্যন্তরীণ তীব্র অসন্তোষ ও কোন্দলকে মূল কারণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই আসনের ছয়বারের প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্রকে টিকিট না দিয়ে প্রথমবার ভোটে দাঁড়ানো আশুতোষ তিওয়ারিকে প্রার্থী করে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। এর পরেই দাতিয়ায় বিজেপি সমর্থকদের ক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। নরোত্তম মিশ্রের হাজার হাজার সমর্থক জাতীয় সড়ক ৪৪ অবরুদ্ধ করেন, পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়ান এবং পাথর ছুড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস প্রয়োগ করতে বাধ্য হয়। বহু দলীয় পদাধিকারী ইস্তফা দেন। যদিও পরবর্তীতে নরোত্তম মিশ্র সমর্থকদের শান্ত করে প্রার্থীর হয়ে প্রচার করেছিলেন, কিন্তু ভোটের বাক্সে সেই ক্ষোভের মাশুল গুণতে হলো বিজেপিকে।

কংগ্রেসের সাংগঠনিক জয় ও লড়াই

অন্যদিকে, কংগ্রেস নিজেদের অভ্যন্তরীণ জটিলতা সামলে প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি শক্ত লড়াই তুলে ধরেছে। ব্যাংক জালিয়াতির মামলায় দিল্লির এক আদালত কর্তৃক তিন বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ায় দাতিয়ার প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক রাজেন্দ্র ভারতীর সদস্যপদ খারিজ হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে এই উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে পড়ে। ভোটের গণনা শুরু হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে রাজেন্দ্র ভারতীকে বহিষ্কার করার মতো কঠিন সিদ্ধান্তের পরও ভোটের লড়াইয়ে জয় ছিনিয়ে আনে কংগ্রেস। ১৫ রাউন্ডের ভোট গণনার এক পর্যায়ে কংগ্রেস প্রার্থী একাই ১২,৬০৭ ভোটের বড় ব্যবধান তৈরি করে ফেলেছিলেন, যা শেষ রাউন্ডগুলোতে বিজেপি কিছুটা কমাতে সক্ষম হয়। মোট ২১ জন প্রার্থীর এই লড়াইয়ে এবার ৭১.৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছিল।

প্রতিক্রিয়া ও আগামী রাজনীতির ইঙ্গিত

বিজয়ের পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিজয়ী কংগ্রেস প্রার্থী ঘনশ্যাম সিং একে “বিজেপির পতনের সূচনা” বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, দাতিয়ায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দূর করা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং অবৈধ জুয়া ও বেটিং চক্র বন্ধ করাই হবে তাঁর মূল অগ্রাধিকার। একই সাথে ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস সরকার গঠন করবে বলেও তিনি আশাপ্রকাশ করেন।

রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটোয়ারী এই জয়কে বিজেপি সরকারের “দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও অহংকারের” বিরুদ্ধে জনগণের রায় বলে বর্ণনা করেছেন। ফলাফলের খবর পেতেই ভোপালে কংগ্রেস সদর দফতরে মিষ্টি বিতরণ ও উল্লাসে মেতে ওঠেন দলীয় কর্মীরা।