PK’s victory in the Bankipur Assembly by-election.
বিশেষ প্রতিবেদন
পাটনা: বিহারের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পালাবদলের বার্তা দিয়ে পাটনার বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোট গণনায় জয় কার্যত নিশ্চিত করলেন জন সুরজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। গণনা ট্রেন্ড অনুযায়ী শুরু থেকেই নিজের জয়ের ব্যবধান ক্রমাগত বাড়িয়ে নিয়ে চলেছেন তিনি। টানা ৩৫ বছর ধরে বিজেপির সবচেয়ে শক্তিশালী শক্তঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই বাঁকিপুর কেন্দ্রে প্রশান্ত কিশোরের জয় শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হলে তা গেরুয়া শিবিরের দীর্ঘ আধিপত্যের পতন ঘটাবে। বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ফল রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ ও বয়ান আমূল বদলে দেবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কঠিন লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ল বিজেপি
রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচন হিসেবে নজর কাড়া এই বাঁকিপুর আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির অখণ্ড দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। সেখানে নির্বাচনী বিপর্যয়ের মুখে পড়ে চরম ধাক্কা খেল ভারতীয় জনতা পার্টি। নির্বাচনের আগে প্রার্থী পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়ে শেষ মুহূর্তে নীরজ কুমার সিনহাকে মাঠে নামিয়েছিল বিজেপি। তবে প্রশান্ত কিশোরের হেভিওয়েট ও সক্রিয় প্রচারের সামনে তুলনামূলক কম পরিচিত মুখ নীরজ সিনহা কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। ভোট গণনার প্রতিটি রাউন্ডেই পিছিয়ে পড়েন বিজেপির প্রার্থীরা।
দু’মাসের আগ্রাসী প্রচার ও সুসংগঠিত জমি তৈরি
প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি কিংবা আরজেডি পূর্ণাঙ্গ প্রচার শুরু করার প্রায় দুই মাস আগেই বাঁকিপুরে নিজের প্রচার অভিযান শুরু করেছিলেন জন সুরজ প্রধান। এই সুদীর্ঘ সময়ে একাধিক জনসভা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণসংযোগ এবং বুথ স্তরে সংগঠনের কাঠামোগত ভিত্তি তৈরি করে নেন প্রশান্ত কিশোর। বিরোধীরা ঘুঁটি সাজানোর আগেই জন সুরজ তাদের নির্বাচনী যন্ত্রকে শক্তিশালী করে এগিয়ে যায়, যা আজকের এই নির্বাচনী ফলে প্রতিফলিত হয়েছে।
জনগণের রায়কে সম্মান জানাচ্ছে শাসকদল
গণনার ট্রেন্ডে জয়ের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা প্রশান্ত কিশোরের জয়ের মুখে দাঁড়িয়ে বিহারের রাজ্য সরকার তথা বিজেপির শীর্ষ নেতা ও মন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা প্রতিক্রিয়ায় জানান, বিজেপি সর্বদাই জনগণের রায়কে সম্মান জানায়। তিনি বলেন, “বিরোধীদের মতো আমরা কোনোদিনও নির্বাচন কমিশন বা ইভিএমকে দোষারোপ করি না। আমরা গণতন্ত্র এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে বিশ্বাস রাখি এবং সানন্দে এই রায় মেনে নিচ্ছি।” কোথায় ভুলত্রুটি থেকে গেছে, তা দলগতভাবে পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
“রাতারাতি বেঙ্গালুরু হবে না, তবে কাজ শুরু হবে”
জয়ের ব্যবধান ক্রমশ সুনিশ্চিত হতে থাকায় এক প্রতিক্রিয়ায় প্রশান্ত কিশোর বলেন, তাঁর মূল লক্ষ্য ভোটারদের বিশ্বাস ধরে রাখা এবং আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে বাঁকিপুরে দৃশ্যমান উন্নতি ঘটিয়ে দেখানো। কোনো আকাশকুসুম প্রতিশ্রুতি না দিয়ে তিনি খোলামেলাভাবে বলেন, “আমার বিধায়ক হওয়া মাত্রই বাঁকিপুর রাতারাতি বেঙ্গালুরু হয়ে যাবে না। তবে ইতিবাচক পরিবর্তন আপনারা নিশ্চয়ই দেখতে পাবেন।” তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, নির্বাচন আসবে আর যাবে, কিন্তু আসল লক্ষ্য হলো বিহারের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি।
প্রশান্ত কিশোরের এই সম্ভাব্য জয় জন সুরজের প্রথম বড় রাজনৈতিক সফলতা হিসেবে কেবল পাটনায় নয়, গোটা বিহারের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে।
