ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে তছনছ নেপাল ও তিব্বত: লাশ উদ্ধার বেড়ে ৭৮৮, আড়াই হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ

Nepal and Tibet devastated by catastrophic mountain torrents

বিশেষ প্রতিবেদন

একটানা প্রবল বৃষ্টি আর পাহাড় থেকে নেমে আসা হড়পা বানে ভেসে গেছে নেপাল ও তিব্বতের সীমান্ত এলাকা। রবিবার (৩০ আগস্ট, ২০২৬) নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (NDRRMA) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৭৮৮ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কাদা আর পাথর সরিয়ে একের পর এক লাশ বের করা হচ্ছে, তাই মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখনও অন্তত ২,৫০২ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তবে এর মাঝেই উদ্ধারকারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায় ৯,৪৩৫ জনকে নিরাপদ জায়গায় সরাতে পেরেছেন।

সীমান্তের ওপারে চীনের তিব্বতেও এই বন্যার প্রকোপ পড়েছে। চীনা সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৫৫০ জন মানুষ এখনও নিখোঁজ।

চিতবনে গণকবর ও লাশ সংরক্ষণের আকুতি নেপালের সুন্দর পর্যটন এলাকা চিতবন এখন লাশের স্তূপে পরিণত হয়েছে। ভাসতে ভাসতে আসা শত শত পরিচয়হীন লাশ সেখানে একসঙ্গে মাটি দেওয়া হচ্ছে। নেপালে সাধারণত হিন্দু রীতি অনুযায়ী দাহ করা হলেও, এখন একসঙ্গে এত লাশ সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব অমৃত বাহাদুর রাই জানিয়েছেন, আপাতত ডিএনএ (DNA) নমুনা সংগ্রহ করে ও নম্বর দিয়ে লাশগুলো মোড়ে মাটির নিচে রাখা হচ্ছে, যাতে পরে পরিবার এসে স্বজনকে শনাক্ত করতে পারে। কিন্তু পর্যাপ্ত ফ্রিজার না থাকায় লাশ পচে নষ্ট হওয়ার ভয় দেখা দিয়েছে। তাই নেপাল সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি ভিত্তিতে ১,০০০-এর বেশি ফ্রিজার চেয়ে সাহায্য চেয়েছে।

টানেলে আটকে পড়া শ্রমিকদের বাঁচাতে ড্রিল ও বিস্ফোরক সবচেয়ে করুণ অবস্থা তৈরি হয়েছে পাহাড়ি নদীর ওপর থাকা জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে। বিশেষ করে ত্রিশূলী ৩এ এবং ৩বি প্রজেক্টের মাটির নিচের টানেলে কাদা-পাথর ঢুকে আটকা পড়েছেন ১০০ জনেরও বেশি শ্রমিক। বন্যার পর আজ ৫ দিন পার হয়ে গেল। শ্রমিকদের জীবন্ত বের করে আনতে উদ্ধারকারীরা দিনরাত ড্রিল মেশিন চালিয়ে ও বিস্ফোরক ফাটিয়ে রাস্তা পরিষ্কারের চেষ্টা করছেন। কিন্তু অবিরাম বৃষ্টি আর উপচে পড়া নদীর কারণে উদ্ধারকাজ বারবার থমকে যাচ্ছে।

ভোটেকোশী নদীতে আবার জল বাড়ছে, তিব্বত সীমান্তে নতুন ধস পরিস্থিতি একটুও শান্ত হয়নি, তার মধ্যেই কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে যে ভোটেকোশী নদীতে নতুন করে জল বাড়তে শুরু করেছে। নদীপাড়ের মানুষজনদের সাবধানে থাকতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, চীন সীমান্তের জিরোং এলাকায় পাহাড়ের বড় অংশ ধসে পড়ে নদীর গতিপথ আটকে নতুন একটি কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হয়েছে। ড্রোন দিয়ে নদীর এই নতুন রূপ দেখে বড় কোনো প্লাবনের আশঙ্কায় চীনা উদ্ধারকারীদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।