Number of voters dropped by 15.7% in 17 regions of the country.
বিশেষ প্রতিবেদন
‘দ্য হিন্দু’ (The Hindu)-তে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর নির্বাচন কমিশনের চালানো ‘স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন’ (SIR)-এর তৃতীয় পর্যায়ে ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকায় এক অভূতপূর্ব পতন দেখা গিয়েছে। পূর্ববর্তী হিসাবের তুলনায় এসব অঞ্চলে ভোটারের সংখ্যা এক ধাক্কায় কমেছে প্রায় ১৫.৭ শতাংশ।
ভোটার তালিকায় বড় পতন: পরিসংখ্যানে আসল ছবি
‘দ্য হিন্দু’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোকসভা নির্বাচনের সময় এই ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মোট নথিভুক্ত ভোটার ছিলেন ৩৫ কোটি ৫০ লক্ষ ৫০ হাজার ৮ জন। কিন্তু এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শেষে প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২৯ কোটি ৯৩ লক্ষ ১১৫-এ। অর্থাৎ, খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন প্রায় ৬.১৫ কোটি ভোটার।
উল্লেখ্য, লোকসভা নির্বাচন এবং এসআইআর-এর ‘এনুমারেশন ফেজ’-এর মধ্যবর্তী সময়ে এসব অঞ্চলে প্রায় ৫৭.৭৫ লক্ষ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছিলেন। ফলে এসআইআর শুরু হওয়ার ঠিক আগে মোট ভোটার সংখ্যা বেড়ে হয়েছিল প্রায় ৩৬ কোটি ৮ লক্ষ ৭ হাজার ৩ ৯৪। কিন্তু খসড়া তালিকা প্রকাশ হতেই দেখা যায়, সেখান থেকে এক লপ্তে ৬.১৫ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়ল যেখানে
পরিসংখ্যান বলছে, বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যার বিচারে দেশের মধ্যে সবচেয়ে শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র। রাজ্যটিতে খসড়া তালিকা থেকে বাদ গিয়েছেন ১ কোটি ৫৮ লক্ষ ৯৬ হাজার ১৯৮ জন ভোটার, যা মোট ভোটারের ১৭.০৮ শতাংশ। তবে নতুন ভোটার যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও মহারাষ্ট্রই এগিয়েছিল; এই সময়ে সেখানে প্রায় ৪৭.৯২ লক্ষ নতুন নাম নথিভুক্ত হয়।
অন্যদিকে, শতাংশের বিচারে সবচেয়ে বড় পতন দেখা গিয়েছে দেশের রাজধানী দিল্লি এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল চণ্ডীগড়ে:
- দিল্লি: খসড়া তালিকায় ভোটার কমেছে ৩৫.৮৯%। লোকসভা নির্বাচনের সময় দিল্লিতে ভোটার ছিলেন ১ কোটি ৫২ লক্ষের বেশি, যা এসআইআর শুরুর আগেই নেমে এসেছিল ১ কোটি ৪৫ লক্ষে।
- চণ্ডীগড়: এখানে ভোটার তালিকা সংকুচিত হয়েছে ৩১.৮৪%।
এ ছাড়া উত্তরাখণ্ডে ৪.৭ লক্ষ, ওড়িশায় ৩.১৭ লক্ষ, চণ্ডীগড়ে ১.৪৪ লক্ষ এবং পাঞ্জাবে ১.১ লক্ষ ভোটার কমেছে।
কেন বাদ পড়ল ৬.১৫ কোটি নাম?
‘দ্য হিন্দু’র দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া ৬.১৫ কোটি ভোটারের মধ্যে সিংহভাগই কিন্তু ‘মৃত’ নন। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী:
- মৃত ভোটার: মাত্র ১.১১ কোটি।
- অনুপস্থিত (Absent) ভোটার: সবচেয়ে বড় অংশ—প্রায় ৪.৫২ কোটি।
- একাধিক জায়গায় নাম (Multiple Enrolment): প্রায় ৪৯.৫৮ লক্ষ।
- অন্যান্য কারণ: প্রায় ৩ লক্ষ।
অর্থাৎ, ভুয়া নাম ছাঁটাই এবং ভোটার তালিকার আধুনিকীকরণের প্রক্রিয়াই এই বড়সড় পরিবর্তনের মূল কারণ।
এখনও চূড়ান্ত নয় এই তালিকা
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, এটি কেবল খসড়া (Draft) ভোটার তালিকা। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় কমিশন ভোটারদের জন্য দাবি, আপত্তি জানানো এবং ভুল সংশোধনের সুযোগ খোলা রেখেছে। যাঁরা ভুলবশত বাদ পড়েছেন বা নতুন নাম যুক্ত করতে চান, তাঁরা নির্দিষ্ট সময়ে আবেদন করতে পারবেন। ফলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় এই ৬.১৫ কোটির সংখ্যাটিতে বেশ কিছু পরিবর্তন হতে পারে।
দেশজুড়ে এসআইআর-এর বর্তমান অবস্থা
বর্তমানে ১৬টি রাজ্য ও ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তৃতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে। নাগাল্যান্ড (২০ সেপ্টেম্বর) ও ত্রিপুরা (২১ অক্টোবর) ছাড়া ১৭টি অঞ্চলের খসড়া ইতিমধ্যে প্রকাশিত।
এর আগে বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাত, ছত্তীসগঢ়, গোয়া, পুদুচেরি, আন্দামান ও নিকোবর এবং লক্ষদ্বীপে এসআইআর-এর কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। অসমে এনআরসি (NRC) সংক্রান্ত আইনি বিষয় থাকার কারণে আলাদা রিভিশন করা হয়েছে।
আগামী দিনে কোন রাজ্যগুলি বাকি?
তৃতীয় পর্যায় শেষ হলে দেশের প্রায় সর্বত্রই ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শেষ হবে। বাকি থাকবে কেবল হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে আগামী দিনে জনগণনার (Census) দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শেষ হওয়া এবং হিমালয়ের চরম প্রতিকূল আবহাওয়া কাটার পর এই রিভিশন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
