Hostel collapse at Satya Niketan: At least 5 dead
নিজস্ব প্রতিবেদন
নতুন দিল্লি: বসতি ও বাজার এলাকায় ফের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। রাজধানীর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে সত্য নিকেতনে ধসে পড়ল একটি পাঁচতলা বেসরকারি হোস্টেল ভবন। রবিবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বেশ কয়েকজন আটকে থাকার আশঙ্কায় চালাচ্ছে দ্রুত উদ্ধার অভিযান।
ঘটনার সূত্রপাত ও হতাহত
রবিবার দুপুর ১টা ৩৪ মিনিট নাগাদ নানকপুরা গুরুদ্বারের কাছে একটি বহুতল ভেঙে পড়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী ও পুলিশ। দুর্ঘটনাস্থল সাউথ ক্যাম্পাসের বিপরীত দিকে হওয়ায় সেখানে প্রচুর শিক্ষার্থী ও দিনমজুরের নিত্য আনাগোনা ছিল। ‘হোস্টেল ডেজ’ নামের এই ভবনটি শিক্ষার্থীদের বেসরকারি আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS)-এর জেপিএন অ্যাপেক্স ট্রমা সেন্টার থেকে জানানো হয়েছে, সেখানে মোট ১০ জনকে আহত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৪ জনকে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন এবং অন্য এক আশঙ্কাজনক রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কেন ঘটল এই বিপর্যয়?
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভবনটির নিচের তলার পিলারের ভিত্তি বেশ দুর্বল ছিল। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসছে যে, সম্প্রতি ভবনটির নিচের অংশে ও বেসমেন্টে নতুন করে খনন এবং বেশ কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন করা হচ্ছিল। কোনো সুনির্দিষ্ট সুরক্ষা পরিকল্পনা ছাড়াই এই পরিবর্তন করার ফলে ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পুরো পাঁচতলা ভবনটি নিমেষে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।জানা গেছে, গুরুগ্রামের বাসিন্দা হরি ওম নামে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ছিল এই ‘হোস্টেল ডেজ’। এই ভবনটির আশপাশের বেশ কিছু প্লট ও বহুতলের মালিক তাঁর দুই ভাই আনন্দ বংশল ও আজাদ বংশল।
উদ্ধারকাজের প্রধান চ্যালেঞ্জ
ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছেছে পুলিশ, ৮টি দমকলের গাড়ি এবং ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (NDRF)-এর উদ্ধারকারী দল। তবে সংকীর্ণ গলি এবং আশপাশের ঘন বসতির কারণে দুর্ঘটনাস্থলে বড় জেসিবি বা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।উদ্ধারকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের সুরক্ষিত রাখতে অত্যন্ত সাবধানে এগোতে হচ্ছে। ভারী যন্ত্রপাতির ভাইব্রেশন বা চাপে ভেতরের কাঠামো আরও ধসে পড়ে ভেতরের বাসিন্দাদের প্রাণহানি ঘটতে পারে। তাই উদ্ধারকারী কর্মীরা ম্যানুয়ালি, অর্থাৎ হাতে করে ইট ও স্ল্যাব সরিয়ে ফাঁসে থাকা জীবিত মানুষদের খোঁজার চেষ্টা করছেন।
পূর্ববর্তী স্মৃতি ও আতঙ্ক
সাউথ ক্যাম্পাস এলাকায় এটাই প্রথম দুর্ঘটনা নয়। ২০২২ সালেও এই সত্য নিকেতনেই সংস্কার কাজ চলাকালীন একটি তিনতলা বাড়ির ছাদ ধসে পড়ে ২ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। বারবার এই ধরনের অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ ও আইন অমান্য করে বহুতল পরিবর্তনের ফলে সাধারণ ছাত্র ও বাসিন্দাদের জীবন বিপন্ন হচ্ছে বলে সোচ্চার হয়েছেন স্থানীয়রা।নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে না দেখে কীভাবে এমন বিপজ্জনক নির্মাণ হচ্ছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
