2027 Census Controversy
বিশেষ প্রতিবেদন
জনগণনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো দেশজুড়ে মোট কতজন মানুষ বাস করছেন এবং তাঁদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন, তার একটি নির্ভুল চিত্র তুলে ধরা। কিন্তু ২০২৭ সালের প্রস্তাবিত জনগণনার প্রশ্নমালা ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—পরিসংখ্যান তৈরির নামে কি সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে?
১. নতুন প্রশ্নমালায় কী কী অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া হচ্ছে?
এবারের নতুন প্রশ্নমালায় মোট ৪০টি প্রশ্ন রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সাধারণ তথ্যের পাশাপাশি এবার চাওয়া হচ্ছে:
- বাবা-মা এবং স্বামী বা স্ত্রীর নাম ও বিবরণ।
- ঘোষিত জাতীয়তা এবং স্থায়ী ঠিকানা।
- কোভিড-১৯ টিকা নেওয়ার বিবরণ।
- মোট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ও ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর।
- আধার নম্বর, ভোটার কার্ড নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত তথ্য।
২. বিতর্কের মূল কারণগুলো কী কী?
- পরিসংখ্যানগত প্রয়োজনীয়তার অভাব: সমালোচকদের বড় প্রশ্ন হলো—আধার, ভোটার আইডি বা পাসপোর্ট নম্বরের মতো একান্তই ব্যক্তিগত পরিচয়পত্র থেকে জনগণনার জন্য ঠিক কী ধরনের সামাজিক বা অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান তৈরি সম্ভব?
- ভুল তথ্যের আশঙ্কা: বলা হয়েছে এই তথ্যগুলো ‘উপলব্ধ থাকলে’ দিতে হবে। কিন্তু পরিবারের একজন সদস্যের পক্ষে অন্য সব সদস্যের বা বৃদ্ধাশ্রম, ছাত্রাবাস ও জেলের মতো প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের পক্ষে সব বাসিন্দার এই ধরনের নির্দিষ্ট কাগজপত্র হাতের কাছে রাখা সম্ভব নাও হতে পারে। ফলে তথ্যে ভুল থাকার বড় ঝুঁকি থেকে যায়।
- জাতীয়তা সংক্রান্ত ধোঁয়াশা: শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির মৌখিক ‘ঘোষণা’-র ওপর ভিত্তি করে তাঁর নাগরিকত্ব ঠিক করা যায় না। তাই ১৯৭১ সাল থেকে এই প্রশ্নটি বাদ দেওয়া হয়েছিল, যা আবার ফেরত আনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
- এনপিআর (NPR) ও তথ্যের গোপনীয়তা: বাবা-মায়ের নাম, স্থায়ী ঠিকানা ও জাতীয়তার মতো তথ্যগুলো মূলত জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন বা এনপিআর (NPR)-এর ক্ষেত্রে লাগে। ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, জনগণনার আড়ালে পরোক্ষভাবে এনপিআর-এর তথ্যই সংগ্রহ করা হচ্ছে কি না। যদি জনগণনার তথ্য অন্য কোনো সরকারি উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়, তবে নাগরিকদের তথ্যের গোপনীয়তা (Privacy) ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
- অতিরিক্ত চাপ ও তথ্যের মান নষ্ট: ৪০টি দীর্ঘ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে উত্তরদাতা ও তথ্য সংগ্রহকারী—উভয়েই ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন। এর ফলে দায়সারা উত্তর মিললে মূল জনগণনার গুণগত মানই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মূল প্রশ্ন: পরিসংখ্যান সংগ্রহের সরকারি তাগিদ ঠিক কোন জায়গায় গিয়ে থামা উচিত, আর নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার রক্ষা কোথা থেকে শুরু হওয়া উচিত—এই মুহূর্তের বড় বিতর্ক সেটাই।
(তথ্যসূত্র: দি হিন্দু)
