Koel Mallick leaves Trinamool to become BJP’s Rajya Sabha candidate.
বিশেষ কৌতূক প্রতিবেদন.
কায়দায় দারুণ কিছু ঝড় তুলবেন। কিন্তু কোথায় কী! রাজ্যসভায় একটা দিনও মুখ খুলে কিছু বলারদল বদল নয়, এ যেন পোশাক বদলের ফ্যাশন শো! পদ্মশিবিরে কোয়েল বাহারে রাজ্যসভা জমে ক্ষীর ওরে বাবা রে! বঙ্গ রাজনীতি এখন এমন এক জায়গায় এসে পৌঁছেছে, যেখানে সিনেমার স্ক্রিপ্টও ফেল মারবে।
বাংলা সিনেমার মিষ্টি নায়িকা থেকে রাজনীতিতে নাম লেখানো, আর তারপর কয়েক মাসের ব্যবধানে ঘাসফুল থেকে সোজা পদ্মফুলে নাম লেখানো—সব মিলিয়ে একেই বলে রিয়েল লাইফ রিল ড্রামা! ঘটনাটা খুলেই বলা যাক। ২০২৬ সালের এপ্রিলে ঘাসফুলের টিকিটে সোজা রাজ্যসভার গ্রিন রুমে এন্ট্রি নিয়েছিলেন আমাদের কোয়েল মল্লিক (রুক্মিণী মল্লিক)। ভাবা গিয়েছিল, সংসদে গিয়ে সিনেমার সংলাপের ফুরসতই পেলেন না, তার আগেই জুলাইয়ের ১৬ তারিখে সটান চেয়ারম্যান সি. পি. রাধাকৃষ্ণণের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বেরিয়ে এলেন। এ যেন ‘কভি খুশি কভি গম’-এর থেকেও স্পিড ডিরেকশন! তারপরেই শুরু আসল টুইস্ট। সোজা দিল্লি ডায়েরি—সাক্ষাৎ করলেন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে। এদিকে বাঙালি তো ভড়কে গিয়ে ভেবেছিল, চলো বাপু, রাজনীতি-টাজনীতি ছেড়ে কোয়েল বুঝি আবার ক্যামেরার সামনে রঞ্জিত মল্লিকের সাথে ঘরোয়া শুটিংয়ে ফিরে যাবেন।
কিন্তু টলিউডের লিজেন্ড উত্তম কুমারের এক অনুষ্ঠানে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে রঞ্জিত মল্লিক মশাইয়ের প্রণাম পাওয়ার সেই আইকনিক দৃশ্য দেখেই রাজনৈতিক পণ্ডিতরা বুঝে গিয়েছিলেন—ডাল মে কুছ কালা তো হ্যায়, আর সেই কালো ডাল এখন দিব্যি পদ্মফুলের ছ্যাকা দিয়ে ভাজা হচ্ছে! ইংরাজী খবরের কাগজেও এখন শোরগোল পড়ে গেছে—এই নিয়ে নাকি খোদ বিজেপির অন্দরেই শুরু হয়েছে বিরাট বিতর্ক! আদি বনাম নতুনের লড়াইয়ে নাম দিয়েছে “তৃণমূলীকরন অফ বিজেপি”। যে দল এতদিন তৃণমূলের বিরুদ্ধে হুংকার দিয়ে বেড়াত, আজ তারাই একে একে তৃণমূলের হেভিওয়েট বা হেভিওয়েট-ঘনিষ্ঠদের এনে রাজ্যসভার টিকিট ধরাচ্ছে।
এ যেন ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর উল্টো পিঠ—ঘরের মোষকেই সোজা এনে বাড়ির রাজসিংহাসনে বসিয়ে দেওয়া! আর আমাদের কোয়েল দেবী? ক্ষমতার চিটে গুড়ের মিষ্টি স্বাদ কি আর ছাড়া যায় বলুন? তাই চোখ-লজ্জা সব পকেটে পুরে, কয়েকমাসের ব্যবধানে শুধু গায়ে জামার রংটা বদলে নিলেন—সবুজ থেকে একদম গেরুয়া! বঙ্গ রাজনীতির এই অদ্ভুত ম্যাজিক দেখে জনতা এখন বলছে, “বাহ রে রাজনীতি! এখানে দলবদল নয়, এ তো শীতের সোয়েটার পালটানোর থেকেও দ্রুত হয়!” এখন দেখার, আগামী ১৬ অক্টোবর আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনে এই ‘সিনেমাটিক’ এন্ট্রি বক্স অফিসে কতখানি সুপারহিট হয়!
