Volatile situation at Jantar Mantar; several leaders detained.
বিশেষ প্রতিবেদন
নয়াদিল্লি: Cockroach Janta Party (CJP)-এর পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে আজ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজধানী নয়াদিল্লি। নির্বাচন কমিশনের (CEC) বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছিল যন্তর মন্তরে। আর এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আজ সকাল থেকেই নজিরবিহীন নিরাপত্তা এবং ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ।
১. নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও আধুনিক নজরদারি
- বিশাল পুলিশ বাহিনী: রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রায় ৩৫ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
- প্রযুক্তির ব্যবহার: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকর্মীদের নাইট ভিশন বডি ক্যামেরা দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে ওপর থেকে নজরদারি, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ফেসমিকগনিশন (মুখ চেনার প্রযুক্তি) সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে।
- কড়াকড়ি: দিল্লির বেশ কিছু প্রবেশদ্বার সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তার কারণে ৪৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে।
২. হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আটক
প্রতিবাদ কর্মসূচির আগে থেকেই একাধিক বিরোধী নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে আটক করা হয়েছে:
- ধ্রুব রাঠী: গোপন সূত্রে খবর, শনিবার সকালে গুরুগ্রামের একটি ফ্ল্যাট থেকে যৌথ অভিযানে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
- বাম ও অন্যান্য নেতারা: কেরালার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, প্রবীণ নেত্রী বৃন্দা কারাট, রাজ্যসভা সাংসদ জন ব্রিটাস, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এবং এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষকেও আটক করা হয়েছে।
- নেতাদের প্রতিক্রিয়া: আটক হওয়ার পর পিনারাই বিজয়ন সহ অন্য নেতারা সোশাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, “গণতন্ত্র আজ আক্রমণের মুখে। ব্যারিকেড দিয়ে মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না।”
৩. সাধারণ জীবনযাত্রা ও ব্যবসায় প্রভাব
- বাজার বন্ধ: নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে দিল্লির বিখ্যাত কনট প্লেস মার্কেট আজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে নিউ দিল্লি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন (NDTA)। ব্যবসায়ীদের মতে, এই একদিনের বনধে প্রায় ২,০০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
- প্রতিবাদীদের অবস্থান: সিজিপি (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে মুম্বাই থেকে দিল্লি এসে এই বিশাল নিরাপত্তা ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি জানান, সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার তাঁদের রয়েছে। তবে পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে রাস্তায় নামলেই আন্দোলনকারীদের আটক করে নির্ধারিত স্পোর্টস কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। নতুন আপডেট পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।
